Saturday, April 11, 2026
Home Blog Page 99

এবার লেবাননে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উত্তরে পর্বতময় কেসারওয়ান জেলায় বৃহস্পতিবার একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩জন নিহত হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে রাশিয়ার ফার ইস্ট অঞ্চলের কামচাটকা উপদ্বীপে এন-২৬ নামে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজটির ২৮ আরোহীর মধ্যে ২২ জন সাধারণ যাত্রী ও ৬জন ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনায় তারা সবাই নিহত হন।

এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সেসনা ১৭২ মডেলের বিমানটি বৈরুত বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার সময় উড্ডয়ন করে। এর ২০ মিনিট পর বিমানটি ঘোস্তা নামে একটি গ্রামে বিধ্বস্ত হয়।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ওপেন স্কাই কর্তৃপক্ষের মন্তব্য জানা যায়নি। লেবাননের গণপূর্ত মন্ত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন এবং দ্রুত সরকার বিবৃতি দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বগুড়ার শেরপুরে গরু ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

0

ঋণের বোঝা সইতে না পেরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া কলোনী গ্রামের বাসিন্দা ইনছান আলী নামের এক গরু ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) দুপুরের পর বসতবাড়ির নিজ শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ইনছান আলী গরু কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও সংস্থা থেকে চড়া সুদে বেশ কয়েক লাখ টাকা ঋণ নেন। পর্যায়ক্রমে এই ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে থাকে। ব্যবসায় যে টাকা লাভ হতো তা দিয়ে এনজিওর কিস্তি ও সুদের টাকা পরিশোধ করতেন।

কিন্তু করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ রয়েছে। তাই কিস্তি ও সুদের টাকা দিতে পারছিলেন না। অনেক টাকা বকেয়া পড়ে যায়। এসব বিষয় নিয়ে পারিবারিকভাবেও অশান্তি দেখা দেয়। এসব কারণে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সবার অজান্তে ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ করে নিজ শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্মা করেন।

দীর্ঘসময় তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরের দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কোনো উত্তর না দেয়ায় দরজা ভেঙে ইনছান আলীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়া হয়।

শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাচ্চু বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছেন। কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় দাফনের জন্য মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অফিসার পরিচয়ে প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার

0

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অফিসার পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কামরুল হাসান হিমেল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি, মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, ফেক ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) রাতে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম টিমের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হিমেল প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অফিসারের নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে ফেক ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন পেশার মানুষকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট প্রেরণ করে পরিচিত হতেন। এরপর তাদের চাকরির প্রলোভন, চাকরিজীবীদের ভালো জায়গায় পোস্টিং ও সরকারি কোয়াটার্স দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তাকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নারায়ণগঞ্জে জুস কারখানায় আগুন, নিহত ২

0

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬ জন।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এস এম সাহেদ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল আল আরিফিন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আটকেপড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

আবারও বাবা হলেন সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ

0

নগরীর ইউনিভার্সেল মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের স্ত্রী আফসানা চৌধুরী (শিফা)। মা-ছেলে সুস্থ আছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) রাতে হাবিব তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এ তথ্য জানান।

খুশির খবর জানিয়ে ফেসবুকে হাবিব লিখেন—‘মহান আল্লাহ আমাকে ও শিফাকে একটি পুত্রসন্তান দিয়েছেন। আমরা তার নাম রেখেছি আয়াত। সবাই আমাদের সন্তানের জন‌্য দোয়া করবেন।’

গত ১২ জানুয়ারি, হাবিব তার ৩য় বিয়ের ঘোষণা দেন। এও জানান, মহামারি করোনার কারণে ছোট পরিসরে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কবে হাবিব-শিফা বিয়ে করেছেন এ তথ‌্য জানাননি।

রংপুরে নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১

0

রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় শাপলা কোল্ড স্টোরেজের সামনে বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) নিয়ন্ত্রণহীন একটি মিনি ট্রাকের ধাক্কায় কামাল হোসেন নামে ব্যাটারিচালিত এক অটোচালকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।

মহানগর পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আখতারুজ্জামান প্রধান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিহত কামাল হোসেন মিঠাপুকুর উপজেলার ৪ নম্বর ভাংনি ইউনিয়নের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার দুপুরে মডার্ন মোড় থেকে অটোরিকশায় যাত্রী নিয়ে তিনি মিঠাপুকুরের দিকে যাচ্ছিলেন। মডেল কলেজ রোডে শাপলা কোল্ড স্টোরেজের সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়াভাবে আসা একটি নিয়ন্ত্রণহীন মিনি ট্রাক অটোরিকশায় সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই অটোচালকের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা ৪ যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদেরকে রংপুর মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় পর পরই ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

করোনায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৯৯ জনের প্রাণহানি, শনাক্ত ১১৬৫১

0

মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপর্সগ নিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ১৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫ হাজার ৭৯২ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫১ জন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ লাখ ৮৯ হাজার ২১৯ জন।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৮৪৪ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হলেন ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩৪৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৪ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৫০টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৬২ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬৮২টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৪.৪১ শতাংশ।

জাতীয় ইতিহাসে অপরিহার্য্য নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী !

লেখক: ইমরান মাহফুজ, কবি ও গবেষক ৷

সমাজ, রাষ্ট্র যখন হুজুগে তখন প্রজন্মের অধিকাংশ হুজুগে হবে না কেন? বাংলা ও বাঙালির পাঠক সাময়িক-পার্বণের তাই পারম্পর্য নেই! অহেতুক আলাপ নিয়ে বছরওয়ারি হট্টগোল আছে, কাজের কাজ নেই। বিশেষ করে বাংলার আদর্শদের শতবর্ষ, সার্ধশতবর্ষ, দ্বিশতবর্ষ এলেই তাদের নিয়ে হট্টগোল তুঙ্গে ওঠে এবং যথারীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধু ‘গরজন ও তরজন’ সঙ্গে ব্যাকুলতায় হয় অশ্রু ‘বরষণ’।

কালক্রমে যত দিন যাচ্ছে মানুষের চাহিদা বাড়ছে, বড় বড় প্রাসাদ হচ্ছে, নতুন নতুন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে কিন্তু কমছে চিন্তা শক্তি। আত্মপরিচয়, সমাজ, সংস্কৃতি নিয়ে ভাবা মানুষ চোখে পড়ে না। দুর্লভ হয়ে যাচ্ছে সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার মানুষ! অন্যদিকে ঠিকঠাক বলার মতো তেমন কীর্তিমানদের নিয়ে অসামান্য কাজ আর চোখেও পড়ছে না।

প্রসঙ্গত, জাতীয় ইতিহাসে অপরিহার্য্য ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী যে মাপের মানুষ, তাকে নিয়ে সমাজ বিশ্লেষক, গবেষকদের বাংলা ও ইংরেজিতে যে মাপের কাজ করা উচিত অর্থাৎ অসামান্য আয়োজন চোখে পড়ে না, তবে তা ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক। মাঝে মাঝে সভা-সেমিনার হয়, খুব কম! বইও প্রকাশিত হয় দু’একটা। তবে দাগ কাটার মতো তেমন কিছু হাতে এলো কোথায়!

অনুসন্ধানী পাঠকমাত্র জানেন, নারী জাগরণের অগ্রদূত নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানী। ঊনবিংশ শতাব্দীর এক বিস্ময়কর প্রতিভা। আর শতাব্দীর শেষের দিকে বাংলার মুসলমান ছেলেরা আধুনিক শিক্ষার দিকে পা বাড়ায়। তখনো নারী শিক্ষার কথা ছিল অধরা স্বপ্নের আকাশ! এমন ভাবনায় পূর্ববাংলার সমাজব্যবস্থা নানাভাবে পশ্চাৎপদ ছিল যখন, সেই সময় পিছিয়ে পড়া সমাজকে এগিয়ে নিতে সবার অগ্রভাগে ছিলেন ফয়জুন্নেছা। শতকের চতুর্থ দশকে পূর্ববাংলার এক নিভৃত পল্লীতে (কুমিল্লায়) জন্ম নিয়ে তিনি সমাজের কল্যাণে অসামান্য ভূমিকা রাখেন। বিশেষত শিক্ষা বিস্তারে মনোনিবেশ করেছিলেন তিনি।

কঠোর পর্দার মধ্যে থেকেও তিনি গৃহ শিক্ষকের কাছে আরবি, ফার্সি, সংস্কৃত ও বাংলা ভাষায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। জমিদার বাবার সন্তান হয়েও নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপন করেছেন। শুধু বাবা-মায়ের কাছেই না, মেধাবী ছাত্রী হিসেবে শিক্ষকের কাছেও প্রিয় ছিলেন। এ সম্পর্কে ফয়জুন্নেছা লিখেছেন, ‘আমি: বাল্যাবস্থায় বয়স্যাদিগের সহিত ক্রীড়া কৌতুকে নিমগ্ন থাকিয়াও যথা সময়ে শিক্ষক সান্যিধানে অধ্যয়নাদি সম্পন্ন করিতাম।’

স্মরণীয়রা এমনই। আর দেখা যায়— যারা বড় হয়, তাদের একটা স্বতন্ত্রতা থাকে। সময়ানুবর্তিতা ও নিয়ম-নিষ্ঠা তাদের জীবনের একটি অন্যতম দিক। গবেষকদের তথ্য মতে, ফয়জুন্নেছা ধর্মপ্রাণ ছিলেন। একইসঙ্গে প্রগতিশীল। আড়ালে থেকেও জমিদারি সংক্রান্ত অধিকাংশ কাজ পরিচালনা করতেন। প্রজাদের সচক্ষে দেখার জন্য মাঝে মাঝে তিনি পালকিতে চড়ে তদারকিতে বের হতেন। নিজে দেখে প্রজাদের সুবিধা-অসুবিধা বুঝে ব্যবস্থা নিতেন। সমাজের কল্যাণ সাধনই ছিল তার জীবনের ব্রত। নিরক্ষরদের শিক্ষিত করে তোলা, অসুস্থদের নিরাময়ের ব্যবস্থা করা ছিল একান্ত কাম্য।

এসবের অংশ হিসেবে তিনি একাধিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা-মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন যা চিরদিন ইতিহাসের পাতায় উজ্বল হয়ে থাকবে। রক্ষণশীল সমাজে নিজের চেষ্টায় জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। নিজেকে বিদ্বৎ সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। জমিদারি সংক্রান্ত কাজ শেষে সামান্য বিশ্রামের পরে অন্দরের দেয়ালবেষ্টিত পুকুরে নিয়মিত সাঁতার কাটতেন। জমিদারির বাইরে বাকি সময় কাটাতেন ইবাদত, পারিবারিক কাজ করে ও বই পড়ে।

তদানীন্তন জেলা প্রশাসক মি. ডগলাস ওই জেলার কল্যাণে কিছু কাজের পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার পরে অর্থের অভাবে পড়েন। বিত্তশালী হিন্দু জমিদারদের কাছে ঋণ চাইলে অর্থের পরিমাণ শুনে তারা প্রত্যাখ্যান করেন। ডগলাসের ধারণা ছিল কোনো মুসলমান জমিদার তাকে সাহায্য করবেন না। কারণ ইংরেজদের প্রতি তারা ছিলেন বিরূপ মনভাবাপন্ন।

নিরুপায় হয়ে ডগলাস ফয়জুন্নেছার সাহায্য কামনা করেন। দূরদর্শী ফয়জুন্নেছা ডগলাসের পরিকল্পনার খুঁটিনাটি মনোযোগ সহকারে বিবেচনা করেন। এরপর জনকল্যাণের কথা ভেবে প্রয়োজনীয় অর্থের সম্পূর্ণটাই তোড়ায় বেঁধে একটি চিঠিসহ ডগলাসের কাছে পাঠিয়ে দেন। চিঠিতে লিখেছিলেন— ‘আমি জনকল্যাণমূলক যেসব কাজ করতে চেয়েছিলাম তা আপনার হাত দিয়েই হোক, এই আশা করি। ফয়জুন্নেছা যে টাকা দেয় তা দান হিসেবেই দেয় কর্জ হিসেবে নয়।’

সুদূর বাংলাদেশের নিভৃত পল্লীর একজন নারী জমিদারের সমাজসেবা ও উদার হৃদয়ের পরিচয় পেয়ে ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞীও অত্যন্ত অভিভূত হয়েছিলেন। মহারানী ভিক্টোরিয়া তার সভাসদের পরামর্শক্রমে মি. ডগলাসকে নির্দেশ দেন, জমিদার ফয়জুন্নেছাকে মহারানীর আন্তরিক শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারিভাবে ‘বেগম’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করা হোক।

ডগলাস বিষয়টি জানালে মহারানীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ফয়জুন্নেছা। তিনি বলেন, ‘জমিদার হিসেবে নিজেই সবার কাছে পরিচিত “বেগম” নামে। সুতরাং নতুন করে “বেগম” খেতাবের কোনো প্রয়োজন নেই।’ মি. ডগলাস বড়ই বিপাকে পড়েন। তিনি নিরুপায় হয়ে সম্পূর্ণ ঘটনা মহারানীকে জানান। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে তাকে ‘নওয়াব’ খেতাব দেওয়া হয়।

এমন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মানুষ সমকালে দুর্লভ!

তিনি ছিলেন প্রজারঞ্জক ও জনকল্যাণকামী জমিদার। স্টেটের দেওয়ান লকিয়ত উল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত বিশ্বস্ত নায়েব। তার মাধ্যমে অনেক কঠিন কাজ সহজেভাবে করে ফেলতেন তিনি।

সাহিত্য-সংস্কৃতির ওপর তার গভীর অনুরাগ ছিল। বিভিন্ন পত্রিকার সাময়িকী প্রকাশে ভূমিকা রাখতেন। জানা যায়, সাপ্তাহিক ঢাকা প্রকাশকে (১৮৬১ খ্রি. প্রকাশিত) নগদ অর্থ সাহায্য দিতেন। কৃতজ্ঞতার স্বীকৃতি স্বরূপ তার দানের কথা উল্লেখ করে ঢাকা প্রকাশ (৫ মাঘ, ১২৮১ বঙ্গাব্দ) মন্তব্য করেন ‘অদ্য আমরা আমাদিগের পূর্ব বাংলার একটি মহিলা রত্নের পরিচয় দান করিয়া ক্ষান্ত থাকিতে পারিলাম না। …ইনি যেমন বিদ্যানুরাগিনী ও সর্ববিষয়ে কার্যপারদর্শিনী সেইরূপ সৎকার্যেও সমুৎসাহিনী। …শুনিলাম ইহার আবাসস্থানে সচরাচর যেরূপ করিয়া থাকেন, এখানেও সেইরূপ বিনাড়ম্বরে নিরুপায় দরিদ্রদিগকে দান করিয়াছেন।’

পীরগঞ্জে লকডাউন অমান্য করে বসালেন হাট, ভেঙে দিলেন পুলিশ প্রশাসন

0

গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি, স্টাফ রিপোর্টার

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সাপ্তাহিক বড় হাট ৯নং সেনগাঁও ইউনিয়নের সিন্দুর্না গ্রামে অবস্থিত নসিবগঞ্জ বাজার।

জানা যায় এ বাজার পীরগঞ্জ উপজেলার সর্বোচ বড় হাট এখানে প্রতি বৃহস্পতিবার গরু, ছাগল, হাস, মুরগী, ধান, গম, ভুট্টা, ইত্যাদি সকল প্রকার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান বসে কেনবেচা হয়।

তবে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ বৃদ্ধি হওয়ায় সরকার লক ডাউন ঘোষণা করলে ও ইজারাদার পলাশ রায় বাজার বন্ধ না করলে উক্ত বাজারে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ প্রশাসন অভিযান চালিয়ে নসিবগঞ্জ বাজারের দোকান পাট বন্ধ করে বাজার ভেঙে দেন।

উক্ত বাজারে ইজারাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।তবে ইজারাদার পলাশ রায়ের সহযোগী মোঃতরিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিক কে জানান আমরা বাজারের দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের নিষেধ করেছি আমার কথা না শুনেই তারা দোকান পাট বসিয়ে ফেলেন।

সে সময় পীরগঞ্জ এসপি সার্কেল মোঃআহসান হাবিব,পীরগঞ্জ থানা তদন্ত ওসি মোঃখায়রুল আলম ডন,এসআই সাধন চন্দ্র রায়ের সঙ্গীয় ফোর্স সহ নসিবগঞ্জ বাজার বন্ধের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ এসপি সার্কেল আহসান হাবীবের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিক জানান আমরা সরকারের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি।কোভিড-১৯ এর লক ডাউন সরকার ভুমিকা পালন করে।পীরগঞ্জ উপজেলাবাসীকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে এবং সরকারি নির্দেশ মোতাবেক নসিবগঞ্জ বাজার বন্ধ করেছি।

উক্ত সময়ে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি,সাংবাদিক মাহাববুর রহমান বুলু,সাংবাদিক ফাইদুল ইসলাম,সাংবাদিক মোঃপারভেজ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরী বৈঠক

0

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (৮জুলাই) সকালে মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী দপ্তরের মিনি কনফারেন্স রুমে বৈঠক শেষে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক এমপি জানান, ‘ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দূষিত শিল্পবর্জ্য,অবৈধ দখল এবং খালসমূহে স্থানীয়দের ফেলা আবর্জনায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।

জলাবদ্ধতা দূরকল্পে প্রকল্প এলাকার পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার বাহিরে পূর্ব লালপুর ও পূর্ব ইসদাইরে ৫ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি লো-লিফট পাম্প স্থাপন হয়েছে। ফতুল্লা এলাকার খালসমূহে খননকাজ চলমান আছে। ‘

জলাবদ্ধতা নিরসনে উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম,এমপি বলেন, ‘ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে। প্রকল্পাধীন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বাত্নক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। যেকোন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আন্তরিকভাবে নির্দেশনা ও নজরদারি করা হচ্ছে।’

এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ, প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মতিন সরকার, প্রকল্প পরিচালক রণেন্দ্র শংকর, ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়নের লে.কর্নেল মো: তাকবীম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে অত্র এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি অনুমোদন করেছিলেন। জুন ২০২০ সময়সীমা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সমঝোতা স্মারক হয়। নকশা পরিবর্তন, নতুন আইটেম যুক্ত হওয়ায় প্রকল্প মেয়াদ ৩ বছর বৃদ্ধি এবং প্রকল্প ব্যয় ৫৫৮১৯.৭৯ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ১২৯৯৯১.১৭ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়।