Wednesday, April 1, 2026
Home Blog Page 189

রেড জোনে থাকা সাইফউদ্দিন জ্বরে ভুগছেন, বিপ্লবের শ্বাস কষ্ট!

করোনাভাইরাসের এই সংকটময় সময়ে ক্রিকেটারদের সুস্থতা যাচাই করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যুগোপযোগী দারুন এক উদ্যোগ নিয়েছে। ‘কোভিড-১৯ ওয়েল বিয়িং’ নাম এক অ্যাপ চালু করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ এই সংস্থা। অ্যাপটির মাধ্যমে ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থা জানা যাচ্ছে সহজেই।

শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ক্রিকেটারদের তিনটি জোনে ভাগ করেছে বিসিবি। সেগুলো হলো রেড, ইয়োলো ও গ্রিন জোন। কোনো ক্রিকেটারের শারীরিক অবস্থা রেড জন্যে থাকলে সাথে সাথেই বিসিবি চিকিৎসকের কাছে বার্তা চলে যাবে। আর এমনই দুই ক্রিকেটারের বার্তা পেয়েছেন বোর্ড। একজন স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব এবং অপরজন পেসার সাইফউদ্দিন। এই দু’জনেই আছেন রেড জোনে।

আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের আগে থেকেই অ্যাজমা আছে। আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন গত দুই দিন যাবৎ জ্বরে ভুগছেন এবং তিনি খাবারের কোনো স্বাদ পাচ্ছেন না। জাতীয় এক পত্রিকাকে এমনটা জানিয়েছেন বিসিবি’র ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের ম্যানেজার নাসির উদ্দিন আহমেদ নাসু।

তিনি বলেন, “আজ (২৫ জুন) পর্যন্ত আমরা দুইজনকে রেড পেয়েছি; আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বিপ্লব গতকাল যখন ওই প্রশ্নত্তোর দিচ্ছিল তখন রেড হয়ে গেছে। ওর শ্বাস কষ্ট হচ্ছিল। পরে জানতে পারি ওর অনেক আগে থেকেই অ্যাজমা সমস্যা আছে। তো গতকাল ওর কোভিড চেক করিয়েছি। তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।”

“সাইফউদ্দিনের দুই দিন ধরে জ্বর ও খাবারের কোনো স্বাদ পাচ্ছে না। গতকাল থেকে এটা কাজ করছে। অ্যাপটা মোবাইল ভিত্তিক। প্লেয়াররা মোবাইলে ঢুকে ১৮টি প্রশ্নের উত্তর ফিলআপ করে দিবে। সেটা আমাদের কেন্দ্রীয় সার্ভারে চলে আসবে। ওখান থেকে আমরা মনিটরিং করতে পারি। সবগুলি প্রশ্নের উত্তর দিতে ২০-২৫ সেকেন্ড সময় লাগবে। তারপর ওটা অটোমেটিক আপডেট হয়ে।”– যোগ করেন তিনি।

নাসু আরও বলেন, “এই প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে আমরা প্লেয়ারদের তিনটি জোনে ভাগ করে দিচ্ছি। সেগুলো হলো রেড, ইয়োলো ও গ্রিন। কোনো প্লেয়ার যদি রেড হয় সঙ্গে সঙ্গে আমার কাছে সাব্বিরের কাছে (সাব্বির খান) ও দেবশীষের কাছে এসএমএস আসে যে এই প্লেয়ারটা রেড। এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেই।”

এছাড়া বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানালেন, “অ্যাপটি লাল সংকেত দেওয়া মানে‌ এই নয় যে কারো শরীরে করোনা আছে বা সে ন্যূনতম ঝুঁকিতে আছে। লাল সংকেতের মানে হলো ১৮টি প্রশ্নের কোনো একটি নেগেটিভ ছিল। অতএব তার সঙ্গ আমাদের কথা বলতে হবে। তার সঙ্গ কথা বলে আমরা নির্ধারণ করব কি হয়েছে। মূল ব্যাপার হলো আমিনুল ইসলাম কিংবা সাইফউদ্দিন কোভিড পজিটিভ নয়।”

করোনার মূল প্রবাহ আসছে জুলাই মাসে: ডা. জাফরুল্লাহ

চলতি মাসের শেষের দিকে বা আগামী মাসে করোনাভাইরাসের সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঘটবে বলে আশঙ্কা করছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের গেরিলা কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দার বীর উত্তম মিলনায়তনে করোনাভাইরাস থেকে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর রোগ মুক্তি, তাঁর চিকিৎসা ব্যয় এবং তাঁর লেখা ‘করোনা বনাম বিশ্ব পুঁজিবাজার ২০২০-২১ বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ বিষয়ে এক আলোচনা সভায় বিশিষ্ট এই চিকিৎসক এসব কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আসলে সরকার একটা অন্ধকার ঘরে কালো বিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছে। করোনা সমস্যাটা কীভাবে সমাধান করবে, সেটা তাদের চিন্তার মধ্যে নাই। করোনার মূল প্রবাহ (পিক টাইম) তো আসবে এ মাসে বা তার পরের মাসে। যখন এটা গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়বে। সেজন্য একটা সুস্থ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি বাজেট সংক্রান্ত লেখাটা পড়েন, তাতে কিছুটা দিক-নির্দেশনা আছে। এটা জনগণ দাবি উঠানো ছাড়া, আওয়াজ উঠানো ছাড়া বাংলাদেশে কোনো দিন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তো নয়ই কোনো ক্ষেত্রেই উন্নতি হবে না। সেজন্য আমাদের স্বাস্থ্য আন্দোলনটাকে শক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।’

করোনা থেকে সেরে উঠতে ওষুধের খরচের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জানান, তার করোনা চিকিৎসায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ৮২ হাজার লিটার অক্সিজেন কনজ্যুইম করেন তিনি। তার ফুসফুসে ৮০ ভাগ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল।

একাত্তরের পর এখন মানুষের অনেক ভালোবাসা পাচ্ছেন জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা যে এতজনে দোয়া করেছেন, তা অকল্পনীয়। মানুষ যে এত ভালোবাসতে পারে, একাত্তরের যুদ্ধে পেয়েছিলাম ভালোবাসা, আর এখন পাচ্ছি।’

আলহামদুলিল্লাহ বলে করোনা মুক্তির কথা জানালেন সারোয়ার আলম

শেষ পর্যন্ত সুস্থ হলেন করোনাভাইরাস আক্রান্ত র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। একের পর এক আলোচিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সারোয়ার আলম ১৭ দিন পর করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেন।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে নিজের করোনামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর অশেষ রহমত ও আপনাদের সকলের দোয়ার বদৌলতে COVID 19 থেকে মুক্তি পেলাম। কৃতজ্ঞতা আপনাদের সকলের প্রতি।।’

সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন মাঠে যাওয়া সম্ভব হয়নি, অভিযান চালাতে পারিনি। তবে রাষ্ট্রের স্বার্থে অচিরেই মাঠে নামবো। রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করে যাবো।’

অফিস করেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী!

গত পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঈদের ছুটির পর থেকেই মন্ত্রণালয়ে অনিয়মিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের একরকম নিষ্ক্রিয়তায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামকে সমালোচনার মুখে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

নতুন আর এক সমালোচনার জন্মদিলেন তিনি অফিসে ঠিকমতো উপস্থিত না থেকে। মহামারি করোনাভাইরাসকালীন সময়ে সবচেয়ে নিরুত্তাপ যেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রীর অনিয়মিত উপস্থিতি এবং বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে আছে।

বিগত সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা ওঠে। সরকারি দলের একাধিক নেতার মতে, এই সংকটের সময় তাঁকে সরিয়ে দিলে সরকারের জন্য তা বিব্রতকর হতে পারে ভেবেই তা করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গণমাধ্যম বিষয়টি নজরে আনলে নড়েচড়ে বসেন মন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রণালয়। কার্যালয়ে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি দাবি করেন, ঘরে বসেই দাপ্তরিক সব কাজ সারছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা আছি, তাদেরকে সুস্থ থেকেই কাজ করতে হবে। যারা অসুস্থ তারা তো এক মাস আসতে পারে না। কাজ কিন্তু থেকে নেই, কাজ চলছে। একটা ফাইলও আটকে নেই, সব ফাইল আপডেটেড।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন অফিস সব জায়গায়, এই এক জায়গায় তো অফিস না। যেখানে বসবো আমি, সেখানেই অফিস। আমাদের তো কিছু করার নেই। কারণ সবাই আক্রান্ত হয়ে গেছে। তাই ভুল প্রচারটা ঠিক নয়, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’