Saturday, March 21, 2026
Home Blog Page 186

বুধবার মধ্যরাত থেকে ইউরোপে নিষিদ্ধ পাকিস্তান এয়ারলাইনস

পাইলটদের জাল সনদের কারণে ইউরোপে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে পাকিস্তান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) নিরাপত্তার শঙ্কায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন বাতিল করেছে। খবর আলজাজিরার।

পাকিস্তানের এক তদন্তে দেশটির পাইলটদের এক-তৃতীয়াংশ অসাধু উপায়ে লাইসেন্স সংগ্রহ করার বিষয়টি উন্মোচিত হওয়ার কয়েক দিন পরই ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার এ সিদ্ধান্ত নিল ইএএসএ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন সেফটি এজেন্সির পক্ষ থেকে ৩০ জুন এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তানের সংসদে এক তদন্ত প্রতিবেদনে পাইলটদের এক-তৃতীয়াংশ অসাধু উপায়ে লাইসেন্স সংগ্রহ করার বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে।

এর পর নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসর ফ্লাইট এবং ভিশন এয়ারলাইনসের (প্রাইভেট পাকিস্তানি এয়ারলাইনস) কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।

পিআইএর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইএএসএ জানিয়েছে, তারা এয়ারলাইনসটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি দেখতে পেয়েছেন। ফলে বুধবার মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হচ্ছে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা।

পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস করোনাকালে খুব কম আন্তর্জাতিক ফ্লাইটই পরিচালনা করেছে। গত মাসে অভ্যন্তরীণ রুটে এয়ারলাইনসটির একটি বিমান দুর্ঘটনায় ৯৮ জন নিহত হন।

ওই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার সময় গত সপ্তাহে পাকিস্তানের এভিয়েশন মন্ত্রী গুলাম সারওয়ার জানান, তার দেশের ৮৬০ পাইলটের মধ্যে ২৬২ জনই ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে বিমান চালান।

তিনি জানান, পাকিস্তানের ২৬২ জন পাইলট নিজেরা পরীক্ষা না দিয়েই লাইসেন্স পেয়েছেন। তাদের হয়ে পরীক্ষা দিয়েছে অন্য কেউ।

পাপুল কাণ্ডে কুয়েতি মেজর জেনারেল বরখাস্ত

বাংলাদেশি এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে আর্থিক লেনদেনে সহায়তা ও ঘুষ গ্রহণের জড়িত থাকার অভিযোগে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিসেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

দেশটির উপ প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস আল সালেহ এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেন।

মঙ্গলবার আরব টাইমস জানিয়েছে, এমপি পাপুল ঘটনায় তদন্তের পর ওই মেজর জেনারেলের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

কুয়েতে আদম ব্যবসায় অনিয়ম এবং হাজার কোটি টাকার কারবারে জড়িত সন্দেহে গত ৬ জুন সংসদ সদস্য পাপুল দেশটির পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।

রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সর্বশেষ গত ২৪ জুন তাকে ২১ দিনের জন্য কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ

বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে চীন। ভয়াবহ বন্যায় যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ইয়াংজি নদীর ওপর নির্মিত বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ, যা ভেঙে গেলে ভয়ানক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে চীনের ৪০ কোটিরও বেশি মানুষ।

‘থ্রি জর্জেস’ বিশ্বের সর্ববৃহৎ বাঁধ। এই বাঁধের কাছে এরই মধ্যে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পটিও এখানেই। খবর সিনহুয়া নিউজের।

বলা হচ্ছে, গত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে এখন চীন। চলতি জুনে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্য অঞ্চলজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

লাগাতার এই বর্ষণের কারণে একাধিক নদীর পানি উপচে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

কিন্তু বর্ষার শুরুতেই আকাশ যে ভারী গর্জন শুরু করেছে, সেই সঙ্গে বর্ষণও, তাতে আর কয়েক সপ্তাহ বর্ষণের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে চীনের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেয়া মুশকিল হয়ে পড়বে।

দুই-তিন লাখ নয়, এক কোটিও নয়, ৪০ কোটি মানুষ! একসঙ্গে এত মানুষ রাখার মতো স্থান সংকুলান হবে কি করে তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ঘুম উবে গেছে।

এর মধ্যে যদি আবার বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা থ্রি জর্জেস বাঁধ ভাঙে, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া চীনের পক্ষে মুশকিলই হবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্লোবাল টাইমস পত্রিকা অবশ্য বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। গ্লোবাল টাইমসের বক্তব্য, এ ধরনের যে রিপোর্ট বেরিয়েছে তা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বন্যায় বাঁধ ভাঙার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেএমআই এমডিসহ ৫ জনকে তলব

0

সরকারি প্রতিষ্ঠানে মাস্ক, পিপিই এবং স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহে অনিয়ম দুর্নীতির অনুসন্ধানের অংশহিসেবে জিএমআই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচজনকে তলব করেছে দুদক।

বুধবার দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর স্বাক্ষরে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য যাদের প্রতি নোটিশ জারি করা হয়েছে তারা হলেন- মেসার্স জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান এবং লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু, তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেডের সমন্বয়কারী (মেডিকেল টিম) মো. মতিউর রহমান, এলান কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম আমিন এবং মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির।

জরুরি নোটিশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোভিড-১৯-এর চিকিৎসার জন্য নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জামাদি ক্রয় ও বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

নোটিশে আরও বলা হয়, একে অন্যের যোগসাজশে তারা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। এই অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বক্তব্য নেয়া একান্ত প্রয়োজন। তাই মো. আব্দুর রাজ্জাক, মো. মতিউর রহমান ও আমিনুল ইসলাম আমিনকে ৮ জুলাই দুদকে হাজির হয়ে রেকর্ডপত্রসহ বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ করা হয়।

এ ছাড়া মো. হুমায়ুন কবির ও মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে ৯ জুলাই দুদকে হাজির হয়ে রেকর্ডপত্রসহ বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ করা হয়।

টিকটক বন্ধে মিমি নুসরাতের সময় যেন আর কাটছেই না

0

বন্ধ হয়ে গেছে টিকটক সহ ৫৯টি চাইনিজ অ্যাপ। সোমবার ভারত সরকার এমনই ঘোষণা করেছে। এই টিকটক অ্যাপে বিশেষভাবে সক্রিয় ছিলেন অভিনেত্রী, বসিরহাটের সাংসদ নুসরাত জাহান। নুসরাতের মতো না হলেও আরেক অভিনেত্রী ও যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী ও টিকটকে ভিডিও পোস্ট করতেন। তাঁদের অনুরাগীদের সংখ্যাও ছিল নজর কাড়ার মতো। তাই টিকটক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই দুই তারকার অনুসারীদের যে মন খারাপ হবে তা বলাই বাহুল্য।

এ বিষয়ে এক সংবাদমাধ্যমের কাছে নুসরাত জাহান বলেছেন, তিনি মনে করেন নিজের ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত থাকার একটা মাধ্যম মাত্র টিকটক। কিন্তু দেশের স্বার্থে যদি এই অ্যাপ বন্ধ করা হয়ে থাকে তাতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

২০১৮ সালে টিক টক অ্যাপটি জয়েন করেছিলেন নুসরাত জাহান। তবে এই অ্যাপ বন্ধ হয়ে গেলেও ফলোয়ারদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়বে না বলে জানিয়েছেন তিনি। টিক টক অ্যাপের বদলে ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখবেন নুসরাত।

তবে এর সঙ্গে আরও কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন বসিরহাটের সাংসদ। নুসরতের প্রশ্ন, টিকটক বন্ধ হলেও ভারতে যে চীনা সংস্থাগুলি বিনিয়োগ করেছে তাদের কী করা হবে? চীনা সামগ্রীর আমদানি ও রপ্তানি করে রোজগার করেন তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কী?

অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী যদিও টিকটকের থেকে তাঁর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বেশি সক্রিয়। টিকটক বন্ধ হওয়ার জন্য মিমি এক সংবাদমাধ্যমের কাছে বলছেন, তিনি একজন পারফর্মার। তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। তাই প্রত্যেকটি প্লাটফর্মে তাঁর কাছে সমান। আগামীতে আরো কিছু অ্যাপ যদি বন্ধ হয়ে যায় তাতেও তাঁর কোন অসুবিধা হবে না বলেই জানিয়েছেন মিমি চক্রবর্তী।

কিন্তু সঙ্গে তিনিও কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি আশঙ্কা করছেন দেশে চীনা দ্রব্যের ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারা কি কাজ হারাবেন? ভারতে কি বিকল্প বড় কারখানা তৈরি করা হবে?

জালে ধরা পড়ল সেলাইযুক্ত জীবন্ত রুই মাছ!

0

বাজারে মাছ বিক্রি করার মাছ ধরতে গিয়ে পুকুরে জাল ফেলার পর ধরা পড়ল আটটি সেলাইযুক্ত একটি রুই মাছ। এ ঘটনায় পরিবারের লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কবিরাজের পরামর্শে মাছটি বিক্রি না করে অন্য পুকুরে ছেড়ে দেয়। আজ রবিবার সকালে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা ইউনিয়নের বীর চরোকোনা গ্রামে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই গ্রামের রুপন আকন্দ (৫০) বাড়ির সামনে ৫০ শতক পরিমাণের একটি পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। এই পুকুর থেকে মাঝে-মধ্যে মাছ বিক্রিও করেন। আকন্দ জানান, আজ রবিবার সকালে তিনি মাছ বিক্রি করার জন্য জেলে খবর দেন। পরে দুটি জাল নিয়ে জেলেরা পুকুর থেকে মাছ ধরতে থাকেন। একপর্যায়ে অন্যান্য মাছের সাথে ধরা পড়ে একটি রুই মাছ। সকলের চোখে পড়ে মাছের শরীরে উভয় দিকে ৮টি ছিদ্র। আর প্রত্যেক ছিদ্রে সবুজ রঙের সুতা দিয়ে সেলাই করা হয়েছে। এই অবস্থায় মাছটি তরতাজা থাকলেও নড়াচড়া কম ছিল।

আকন্দ আরো জানান, মাছটি ধরার পর একধরনের আতঙ্ক বিরাজ হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটা এক ধরনের ষড়যন্ত্র। আধ্যাত্মিক লাইনে কবিরাজি করে কোনো ব্যক্তির ক্ষতি সাধন ছাড়াও মাছের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে করা হতে পারে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এক কবিরাজের কথায় মাছটিকে জীবিত রাখতে অন্য একটি সচল পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই অবস্থায় মাছটি কতদিন বেঁচে থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

চীনের পাওয়া নতুন ভাইরাসটি করোনার চেয়েও মারাত্মক!

করোনাভাইরাস মহামারির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব৷ এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষের। এরই মধ্যে বিজ্ঞানীরা নতুন এক ফ্লু ভাইরাস চিহ্নিত করেছেন। সেই চীনেই মিলেছে নতুন এই ভাইরাস। করোনার মতো এটিও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি চিহ্নিত হওয়া নতুন এই ভাইরাসটি শূকর বহন করে। মানুষের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এই ফ্লু ভাইরাসের নামকরণ হয়েছে জি৪ইএএইচ১এন১। এটি মানুষের শ্বাসযন্ত্রের মধ্যে বেড়ে উঠতে এবং বিস্তার ঘটাতে পারে। যারা চীনে শূকর এবং কসাইখানায় কাজ করছেন তাদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।। বর্তমানে যেসব টিকা বাজারে রয়েছে সেগুলো প্রয়োগ করে এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।

ভাইরাসটির উপসর্গ কী?

গবেষকরা বলছেন, এই ভাইরাসটি ইনফ্লুয়েঞ্জা গোত্রেরই৷ জি৪ জেনোটাইপ নামে জেনেটিক মেটেরিয়াল রয়েছে৷ ২০১৬ সাল থেকে শুয়োরের মধ্যে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস৷ করোনার মতোই জি৪ ভাইরাসও শ্বাসনালিতে সংক্রমণ ঘটায়৷ দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে৷ এই ভাইরাস আক্রান্তের উপসর্গ হল, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, কাশি এবং শরীরের ওজন হঠাত্‍ অনেকটা কমে যাওয়া৷

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দুঃখের বিষয় জি৪ ভাইরাসের কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা মানুষের দেহে নেই৷ তাই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছে৷ এর বিরুদ্ধে কোনো হার্ড ইমিউনিটিও নেই এখনো পর্যন্ত৷

সোয়াইন ইন্ডাস্ট্রিতে (শুয়োরের ব্যবসা) কাজ করা মানুষের মাঝে ১০.৪ শতাংশের রক্তে জি৪ পজিটিভ পাওয়া গেছে৷ সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের বয়সের অংশগ্রহনকারীদের রক্তে ভাইরাসের পজিটিভ হার প্রায় ২০ শতাংশ। এটা ইঙ্গিত দেয় যে জি৪ স্ট্রেইন মানুষের সংক্রামকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষণা বলছে, এই ভাইরাসটি মারাত্মক৷ ভবিষ্যতে মহামারির সৃষ্টি করতে পারে এই ভাইরাস৷ বিশেষ করে যারা পর্ক বা শুয়োরের মাংস খান, তাদের থেকেই ছড়াতে পারে সংক্রমণ৷ এই ভাইরাস শুয়োর থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত পর্যন্ত হতে পারে৷

চীনে নতুন যে ফ্লু ভাইরাস পাওয়া গেছে তার সঙ্গে ২০০৯ সালে মেক্সিকো থেকে ছড়িয়ে পড়া সোয়াইন ফ্লুর মিল রয়েছে। এখন পর্যন্ত এটা বড় কোনো হুমকি তৈরি করেনি। কিন্তু ভাইরাসটি নিয়ে গবেষণা করা যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত প্রফেসর কিন-চো চ্যাং এবং তার সহকর্মীরা বলছেন, এর ওপর নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রফেসর কিন-চো চ্যাং বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা করোনাভাইরাস নিয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছি এবং সেটাই সঠিক। কিন্তু আমাদের অবশ্যই নতুন ভাইরাসের সম্ভাব্য বিপদের ওপর থেকে চোখ সরানো চলবে না।’ নতুন এই ভাইরাসটি এখনই সমস্যা তৈরি করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এটি কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত হবে না।’

২০২০ সালটিকে অনেকেই বলছেন, ভাইরাস ও মহামারির বছর৷ তাই কভিড-১৯ থেকে শিক্ষা নিয়ে জি৪ ভাইরাস সম্পর্কে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা৷

করোনার ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে দেশেই

এবার বাংলাদেশেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি শুরু করার দাবি জানিয়েছে দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে প্রাণীর শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে তুলনামূলক সন্তোষজনক অগ্রগতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক রিসার্চ ইনস্টিটিউট নামে এই প্রতিষ্ঠান রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় নিজস্ব ল্যাবে এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় মাঠ পর্যায়ে এই গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে।

গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের স্বত্বাধিকারী মো. হারুন-অর-রশিদ কালের কণ্ঠ’র কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের গবেষকদল কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ শুরু করেছে দেশের কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই। এ ক্ষেত্রে আমেরিকান বিভিন্ন ল্যাবের মান বজায় রেখেই এই গবেষণা শুরু করা হয়। এখন আমরা এই গবেষণার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রটোকল তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দেব অনুমোদনের জন্য।

কীটের ৬০০ কোটি বাকি, করোনার টেস্ট এখন দুষ্প্রাপ্য

0

দেশে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার শুরু থেকে এ পর্যন্ত যত কিট সরকার সংগ্রহ করেছে সে সবের বিলই বকেয়া রয়েছে। কেবল কিটই নয়, নতুন স্থাপনকৃত পিসিআর মেশিন, এমনকি চিকিৎসাকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীরও (পিপিই) কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি। টাকা না পেয়ে কিট ও মেশিন সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন ওই সরবরাহকারীদের একদিকে বোঝানো এবং অন্যদিকে নতুন সরবরাহকারী খুঁজে বের করারও চেষ্টা চলছে।

সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১০টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ কিট আনা হয়েছে দেশে, যার মূল্য প্রতিটি দুই হাজার ৭০০ টাকা দরে প্রায় ৪০৫ কোটি টাকা। এই বিল পরিশোধ করা হয়নি। পিসিআর মেশিন বাবদ প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। পিপিইসহ অন্য উপকরণের বিল বকেয়া রয়েছে হাজার কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে ও তথ্য-উপাত্ত থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিল পরিশোধ নিয়ে জটিলতার কারণ হিসেবে জানা গেছে, কেনাকাটায় সঠিক প্রক্রিয়া বা বিধি-বিধান অনুসরণ না করা, কখনো বা তাত্ক্ষণিক মৌখিক নির্দেশে সরবরাহ নেওয়া এবং অতিরিক্ত দামসহ আরো কিছু দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত শুরু হওয়া। জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন যেকোনো কেনাকাটা বা বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করছে। জরুরি পরিস্থিতির কেনাকাটা হলেও এই মুহূতে উপযুক্ত বিধি-বিধান অনুসরণ ছাড়া সাহস করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে এ ক্ষেত্রেও এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

শুধু বিলই নয়, এর সঙ্গে আরেক জটিলতা তৈরি হয়েছে আমদানি করা প্রায় আট লাখ কিট ফেরত দেওয়া নিয়েও। সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতির কারণে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে দেশে করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম। এ অবস্থায় একটি কিট দিয়ে দুটি নমুনা পরীক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শুরুতে ১০টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে কিট সরবরাহ করার আদেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কখনো বা মৌখিক নির্দেশনা পেয়েও কেউ কেউ নিজেরা বিদেশ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কিট এনে সরবরাহ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। তবে এর মধ্যে ভাগে ভাগে প্রায় সাত লাখ কিট এনেছে এককভাবে একটি প্রতিষ্ঠান, যাদের ওই কিট আনা হয়েছে চীন থেকে। বাকি আটটি প্রতিষ্ঠান প্রায় এক লাখ করে কিট এনেছে কোরিয়া, ইতালিসহ আরো কয়েকটি দেশ থেকে। চীনের কিটগুলোর মতোই অন্য দেশের কিটও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুঝে নিয়ে বিভিন্ন ল্যাবে বিতরণ করেছে। কিন্তু একপর্যায়ে ওই সব কিট ফেরত দেয় বিভিন্ন ল্যাব। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেসব কিট ফেরত নিতে বলে সরবরাহকারীদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চীন ছাড়া অন্য যেসব দেশের কিট সরবরাহ করা হয়েছে সেটা পিসিআর মেশিনে সেট হয় না বা সেট করতে দেরি হয়, এমন কারণ দেখিয়ে ফেরত নিতে বলা হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। অন্যদিকে সরবরাহকারীরা তাদের বিল পরিশোধে চাপ দিতে থাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। তাতে সাড়া না পেয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অজুহাত দেখিয়ে কিট সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. কামরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরবরাহকারীরা কোটি কোটি টাকা মূলধন খাটিয়ে লাখ লাখ কিট এনে দিয়েছে। এখন যদি তারা ওই বিল না পায় কিংবা আবার কারো কারো কিট নানা অজুহাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ফিরিয়ে দেয় সেটা সরবরাহকারীদের পথে বসানোর শামিল হবে। বকেয়া বিল না পেলে তারা আবার কিট আনার টাকা পাবে কোথায়? এ ছাড়া যারা পিসিআর মেশিন সরবরাহ করেছে তারাও বিল পাচ্ছে না। ফলে এখন আবার তাদের কাছে মেশিন চাইলে তারা কিভাবে দেবে?’

ওই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, যে অজুহাত দেখিয়ে সাত-আট লাখ কিট ফিরিয়ে দেওয়া চেষ্টা চলছে সেটা সঠিক নয়। কিটগুলো দেশে থাকা সব পিসিআর মেশিনেই সেট হয় এবং পরীক্ষাও হয় সঠিকভাবেই। এখানে অন্য কোনো ব্যাপার থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ কিটগুলোর কার্যকারিতার মেয়াদ থাকে ছয় মাস। এর মধ্যেই কারো কারো কিটের মেয়াদ দেড়-দুই মাস চলে গেছে। ফলে ওই সরবরাহকারীদের কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে এখন কম দামে হলেও প্রাইভেট ল্যাবগুলোকে কিছু কিছু করে সরবরাহ করতে শুরু করেছে। প্রাইভেট ল্যাবে যে কিট ব্যবহার করা যায় তা কেন একই মেশিনে সরকারি ল্যাবে ব্যবহার করা যাবে না, সেটা বোধগম্য নয়।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, করোনা পরীক্ষায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সবচেয়ে বেশি কিট দেওয়া বা এখন এককভাবে চীনের সব কিট সরবরাহকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ওভারসিজ মার্কেটিং করপোরেশন (ওএমসি), যারা একই সঙ্গে পিসিআর মেশিনসহ আরো কিছু উপকরণ দিচ্ছে। কিন্তু এই বড় প্রতিষ্ঠানটিও কিছুদিন ধরে বেঁকে বসেছে বিলের জন্য। তাদের বকেয়া ২০০ কোটি টাকার বেশি হবে বলে জানায় একাধিক সূত্র। যদিও ওই প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে রাখঢাক করছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অনেক দিন ধরেই এককভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছে বা তাদের কাজ দেওয়ার জন্যই অন্যদের কিট গ্রহণ করা হচ্ছে না।

ওএমসির অন্যতম পরিচালক মারুফ মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিলের জন্য কিট বা মেশিন সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছি—এই কথা সঠিক নয়। শুধু আমাদেরই নয়, কারো বিলই তো দিচ্ছে না। অন্যরা কেন কিট দিচ্ছে না সেটা আমি বলতে পারব না। আমরা কেন দিচ্ছি না সেটাও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরই ভালো বলতে পারবে।’

সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে কী হয়েছিল না হয়েছিল সেটা আমি বলতে চাই না। আমি দায়িত্ব নিয়েছি ২৭-২৮ দিন। এর আগে কোন প্রক্রিয়ায় কাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, বিধি-বিধান মানা হয়েছিল কি হয়নি, সেটাও আমি দেখতে চাই না। তবু যেহেতু বিষয়টি আমার নজরে এসেছে তাই আমি আগের বিল ও ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সুরাহার জন্য নির্দেশনা চেয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। সেখান থেকেই বিষয়টির সমাধান আসবে বলে আশা করি।’

অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানকে কিটের কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রায় এক লাখ কিট হাতে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া আগের যে কিটগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে কথা উঠেছে সেই কিটগুলো থেকে কিছু কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

ওই কিটগুলোর সমস্যা সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি যতটা জেনেছি সেটা হচ্ছে, ওই কিটগুলো কোনো কোনো ল্যাবের মেশিনে প্রপারলি সেট হয় না, আবার সময় খুব বেশি লাগে। এখন যেহেতু আমাদের কাজ চালিয়ে দেওয়া জরুরি তাই দেরি হলেও ওই ধরনের কিছু কিটের সাপোর্ট নেওয়া যেতে পারে, যা নিয়ে ওই সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, হাতে এখনো যে পরিমাণ কিট আছে তা দিয়ে আগামী দুই সপ্তাহ চলবে। এর মধ্যে অন্য সব জটিলতা কাটিয়ে আরো সরবরাহ পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

সিএমএসডির পরিচালক জানান, কিটের সংকটের চেয়ে বরং সরবরাহ সংকটটাই বেশি। কোনো এলাকার ল্যাবে হয়তো কিট বেশি আছে, কোনো এলাকার ল্যাবে কম আছে। যেখানে কম সেখানে এক দিন বেশি চাপ পড়লে ঘাটতির প্রশ্ন ওঠে। আর সেখান থেকে কেন্দ্রে খবর আসার পর কিট পৌঁছাতে হয়তো কয়েক ঘণ্টা বা দু-এক দিন সময় লেগে যায়। তিনি বলেন, কিট সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে একটি কিট (আরটিপিসিআর কিট) দুই ভাগ করে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে করে এক কিটে দুজনের নমুনা পরীক্ষা করা যাবে।

২৬ ঘণ্টা পর লঞ্চ ‘মর্নিং বার্ড’ উদ্ধার

0

বুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়ার ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয়েছে লঞ্চ মর্নিং বার্ড। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে এয়ার লিফ্টিং ব্যাগ দিয়ে ভাসিয়ে তোলা হয় লঞ্চটিকে। পরে এটিকে তীরে নিয়ে আসা হয়।

এর আগে সোমবার রাতভর তল্লাশির পর এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় আবারও তল্লাশি শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মীরাও এই অভিযানে অংশ নেন।

সোমবার সকালে রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায় ছোট আকারের লঞ্চ মর্নিং বার্ড। মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে সদরঘাটে এসে নোঙর করতে যাচ্ছিল মর্নিং বার্ড। ময়ূর-২ লঞ্চটিও চাঁদপুর থেকে সদরঘাটে এসে যাত্রী নামিয়ে ভিন্ন স্থানে নোঙর করতে যাচ্ছিল।

ডুবে যাওয়া লঞ্চটি থেকে আজ পর্যন্ত মোট ৩৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া লঞ্চডুবির প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নদীতে ভেসে ওঠার পর কোস্ট গার্ডের কর্মীরা তাকে তুলে নেন। উদ্ধার করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার জ্ঞান ফিরে আসে। তাকে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

লঞ্চডুবির ঘটনায় গতকাল রাতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন-ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ ছোয়াদ, কর্মচারী মো. আবুল বাশার, মো.জাকির হোসেন, ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার, ড্রাইভার শাকিল হোসেন, সুকানি নাসির মৃধা ও হৃদয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বেপরোয়া লঞ্চ চালিয়ে মানুষ হত্যা ও ধাক্কা দিয়ে লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য দণ্ডবিধির ২৮০, ৩০৪ (ক), ৪৩৭ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিপত কিনা-সেটাও তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর পক্ষ থেকে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।