Thursday, March 26, 2026
Home Blog Page 183

বিয়ের একদিন পরই স্ত্রীকে ৩ লাখ রুপির বিনিময়ে বিক্রি!

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালা এলাকায় সম্প্রতি এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটানার ৩ সপ্তাহ পর লাহোর থেকে পালিয়ে মেয়েটি নিজ বাবার বাড়িতে আসে। পুলিশ আরও জানায়, বিয়ের একদিন পর স্বামী উসমান স্ত্রীকে লাহোরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে বিক্রি করে দেয়।

এক বয়ানে ওই মেয়ে জানিয়েছে, স্বামী উসমান তাকে ৩ লাখ রুপির বিনিময়ে বিক্রি করেছে। গুজরানওয়ালার ডিএসপি নাওয়াজ সেয়াল জানিয়েছেন, ভিকটিম মেয়েটির মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, মেয়েটির স্বামী এবং তাকে ক্রয় করা ব্যক্তিদের সন্ধান করছে পুলিশ। খুব দ্রুতই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লন্ডন-কলকাতা রুটে বাস চলত! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি

0

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো থেকে পেরুর রাজধানী লিমা পর্যন্ত চলাচলরত বাস রুটটিই হলো বর্তমান সময়ের সবচেয়ে দীর্ঘ বাস রুট। যার দূরত্ব প্রায় ৬ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, একসময়ের ভারতবর্ষের রাজধানী কলকাতা থেকে ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডন পর্যন্ত চলতো বাস। বাসটি দুই শহরের মাঝে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতো।

কিন্তু এটি একদমই ঠিক। সুদূর লন্ডন থেকে বাস আসত কলকাতায়। সেই বাসে কলকাতায় আসতেন লন্ডনের অভিজাত ধনীরা।সম্প্রতি এ সম্পর্কিত একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবিতে দেখা যায়- লন্ডনের ভিক্টোরিয়া কোচ স্টেশনে একটি বাসে যাত্রী উঠছেন।

বাসের উপরে লেখা, লন্ডন থেকে কলকাতা। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, ছবিটি হয়তো ভুয়া। কিন্তু না! ১৯৫০-এর দশকে লন্ডন থেকে কলকাতা বাস পরিষেবা ছিল। কী রকম ছিল সেই বাস পরিষেবা? তত্‍কালীন সময়ের অত্যন্ত ধনী ব্যক্তিরাই ওই বাসে উঠতে পারতেন। টিকিটের দাম ছিল ৮৫ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার টাকা)। তখনকার দিনে ৮ হাজার টাকা খুবই দামি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই বাসের টিকিটের একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে।

তাতে লেখা রয়েছে বাসের রুট।লন্ডন থেকে বাসটি ছেড়ে প্রথমে যেত বেলজিয়াম। সেখান থেকে পশ্চিম জার্মানি, অস্ট্রিয়া, যুগোস্লোভিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, ইরান, আফগানিস্তান, পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে ভারতে ঢুকত। ভারতে ঢুকে দিল্লি, আগ্রা, এলাহাবাদ, বারাণসী হয়ে কলকাতা পৌঁছত। ৫ দিন সময় লাগত কলকাতা পৌঁছতে।ওয়ান সাইড ট্র্যাভেলে ফুডিং, লজিংসহ সব লাক্সারি সুবিধা নিয়ে টিকিটের মোট দাম ১৪৫ পাউন্ড (বর্তমানে ১৩ হাজার ৬৪৪ টাকা)।

লাক্সারি বাসটির ট্যাগ লাইন ছিল, ‘Your complete home while you travel’. শাটারস্টকের আর্কাইভের একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৫৭ সালে লন্ডন থেকে কলকাতা যাত্রার সময়ে যুগোস্লোভিয়ায় একটি নদীর ধারে পিকনিক সেরে ফের বাসে উঠছেন প্রায় ২০ জনের মতো ব্রিটিশ নাগরিক।লন্ডন-কলকাতা এই বাস পরিষেবা ১৫টি লাক্সারি ট্রিপ করেছিল বলে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলহামদুলিল্লাহ বলে নিজের ও পরিবারের করোনামুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিলেন আফ্রিদি

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি পরিবারসহ প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। টানা ২০ দিন করোনার সাথে লড়াই করে সুস্থ হয়েছেন আফ্রিদি পরিবার।

করোনাভাইরাস থেকে সপরিবারে মুক্তি পেয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে নিজেই জানিয়েছেন আফ্রিদি। আফ্রিদি জানান, স্ত্রী-দুই মেয়েসহ তিনি নিজে কোভিড-১৯এ আক্রান্ত হলেও এখন তাদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

টুইটারে ছোট কন্যাকে উপরে তুলে চুমু দেয়ার ছবি পোস্ট করে আফ্রিদি লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার স্ত্রী ও কন্যার- আকসা ও আনশা এবং আমি কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ার পর ফের পরীক্ষা করিয়েছি। আমরা সকলেই এখন করোনামুক্ত। আমাদের জন্য দোয়া করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং সৃষ্টিকর্তা যেন আপনাদের সবাইকে ভালো রাখে।

এখন পরিবারকে সময় দেওয়ার পালা। আমি এখন এটাই সবচেয়ে বেশি মিস করছি।’ করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই নিজ দেশের অসহায় ও কর্মহীন মানুষজনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আফ্রিদি। আফ্রিদি ফাউন্ডেশন থেকে প্রতিদিনই দুস্থ-অসহায়দের আর্থিক ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করা হয়।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নিজের প্রিয় ব্যাট নিলামে তুলেছিলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রফিম। সেই ব্যাটটি নিলাম থেকে ২০ হাজার ডলারে কিনেছিলেন আফ্রিদি। আফ্রিদির আগে পাকিস্তানের ক্রিকেটার তৌফিক উমর ও জাফর সরফরাজ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। জাফর করোনায় মারা গেলেও তৌফিক সুস্থ হন।

আর সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরের আগে পাকিস্তানের দশজন ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত হন। তৃতীয় দফার পরীক্ষায় ছয়জনের করোনা নেগেটিভ আসে। আর চারজনের পজিটিভ আসে। পজিটিভ আসা চারজন হলেন- ইমরান খান, কাশিফ ভাট্টি, হায়দার আলি ও হারিস রউফ।

চায়ের নে’শায় হাসপাতাল থেকে পালালেন করোনা রোগী!

করোনা আক্রান্ত সত্তরোর্ধ্ব ওই বৃদ্ধকে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। সেখানে দিব্যি ছিলেন তিনি। তবে বৃদ্ধের দাবি একটাই, মাঝে মধ্যে নে’শা মেটাতে তাকে গরম গরম চা খেতে দিতে হবে। কিন্তু হাসপাতাল কর্মীরা তার সেই দাবি কানে তোলেননি। অগত্যা চায়ের নে’শায় হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধ মধুসূদন।

পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে ঠিকই। তবে এই ঘটনার পর থেকেই করোনা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চায়ের দোকানি।

ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর নাগারভাবির বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ অনেক আগে থেকেই ডায়াবেটিস রোগী। রক্তে শর্করার পরিমাণ ছিল যথেষ্ট বেশি। তার উপর আবার দিনকয়েক ধরে একটুতেই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাই কোনো ঝুঁকি নেয়নি তার পরিবার। ভর্তি করিয়েছিল একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে করোনা পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্ট পসিটিভ আসে।

ওই বেসরকারি হাসপাতালেই কয়েকদিন চিকিৎসা হয় তার। পরে আর্থিক সমস্যার কারণে সেখান থেকে সরিয়ে মাইসুরু রোডের এক সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

এদিকে, প্রতিদিন মুখের সামনে গরম গরম চায়ের পেয়ালা দেখেই ঘুম চোখ খুলতে অভ্যস্ত ওই বৃদ্ধ। কিন্তু হাসপাতালে সেই নিয়ম বদল। ঘড়ির কাঁটায় পাঁচটা বাজতে না বাজতেই চায়ের দাবি জানাতে থাকেন করোনা আক্রান্ত ওই বৃদ্ধ। তা মেলেনি। ঘণ্টাদুয়েক পর তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। চায়ের দোকানের খোঁজে হাসপাতাল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান তিনি।

কিছু দূরেই একটি চায়ের দোকানও দেখতে পান। সেখানেই ধোঁয়া ওঠা চায়ে চুমুক দিয়ে সবে গলা ভিজিয়েছেন। এমন সময়ে তার হাতের স্যালাইনের নল দেখে এক ব্যক্তির কৌতূহল জাগে। তিনি জানতে চান কী হয়েছে? বৃদ্ধের সাফ জবাব, তিনি করোনা আক্রান্ত। হাসপাতালে চা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বেরিয়ে পড়েছেন।

সে কথা শুনে চায়ের দোকানের সকলেই হতচকিত হয়ে যান। এরপর ওই চায়ের দোকান মালিকই হাসপাতালে খবর দেন। হাসপাতাল কর্মীরা খবর পাওয়া মাত্রই চায়ের দোকান থেকে বৃদ্ধকে উদ্ধার করেন। তবে চায়ের দোকানি-সহ ওই বৃদ্ধ করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা আপাতত উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। সংক্রমণের আশঙ্কায় চিন্তিত সবাই।

রাজশাহীর সব এলাকা এখন রেড জোনে!

0

শুরু থেকেই কোরোনাভাইরাস নিয়ে খুবই সচেতন ছিল রাজশাহী। তাই দেশের অনেক এলাকায় যখন করোনা সংক্রমণ ঘটে মারাত্মক আকারে তখন রাজশাহীতে তার ছিটে ফোঁটা লাগেনি। কিন্তু গত দুই মাসে সবকিছুই কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন রাজশাহী জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত ৯১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে এবার রাজশাহী জেলার সব এলাকা এখন রেড জোনে।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, রাজশাহীতে জনসংখ্যা ৩০ লাখ। আর আক্রান্তের সংখ্যা ৯১০ জন। জোন ঘোষণার শর্ত অনুযায়ী জেলা ও মহানগরের সব এলাকা এখন রেড জোন। কিন্তু লকডাউনের শর্ত ভিন্ন। যার কারণে লকডাউন ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না।

জেলায় আক্রান্ত ৯১০ জনের মধ্যে ৬৫০ জনই মহানগর এলাকার। এছাড়াও জেলার বাঘা উপজেলায় ২০, চারঘাটে ২৮, পুঠিয়ায় ১৪, দুর্গাপুরে ১২, বাগমারায় ৩১, মোহনপুরে ৪১, তানোরে ৩৭, পবায় ৬৭ ও গোদাগাড়ীতে ১০ জন রয়েছেন।

রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন নয়জন। এর মধ্যে রাজশাহী মহানগরীতেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে বাঘা, চারঘাট, পবা ও মোহনপুরে একজন করে মারা গেছেন। রাজশাহীতে মোট মারা গেছেন ১৪০ জন।

এক রাতের ব্যবধানে কোটিপতি! ১৫ কেজি পাথর বিক্রি করে ২৯ কোটি টাকার মালিক

তানজানিয়ায় ১৫ কেজি পাথর বিক্রি করে প্রায় ২৯ কোটি টাকা পেলেন এক ক্ষুদ্র খনি ব্যবসায়ী। অনেকটা ‘এক রাতের ব্যবধানে কোটিপতি’ হওয়ার মতো ঘটনা। তবে এটি সাধারণ কোনো পাথর নয়। তানজানিয়াট নামের রত্নপাথর। আর কোটিপতি হওয়া ওই ব্যক্তি হলেন আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার এক ক্ষুদ্র খনি ব্যবসায়ী সানিনিউ লাইজার।

তানজানিয়ার সেই নিদৃষ্ট এলাকাতেই পাওয়া যায় এই রত্নপাথর তানজানিয়াট। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি তানজানিয়াট পেয়েছেন লাইজার। এর একটির ওজন নয় কেজি ২০০ গ্রাম আর অন্যটির ওজন পাঁচ কেজি ৮০০ গ্রাম। বুধবার দেশটির মানিয়ারা এলাকায় পাথর দুটি বিক্রি করেন তিনি। পাথর দুটি কিনেছে দেশটির রত্নপাথর-সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়।

এই পাথর পাওয়া ও তা বিক্রি করার ঘটনা রটে গেছে সারা দেশে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিজেই লাইজারকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ২০১৫ সালে তানজানিয়ায় প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলি ক্ষমতায় এসে দেশটির ভবিষ্যৎ বদলে দেয়ার জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খনি ব্যবসায়ীকে অনুমোদন দেন। ফলে লাইজারের মতো অনেকেই এই ব্যবসা করে থাকেন।

বিবিসি’র একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, তানজানিয়াট অন্যতম একটি দুর্লভ পাথর। অলংকার তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয় এই পাথর। স্বচ্ছতা ও রঙের ওপর নির্ভর করে এর দামের হেরফের হয়ে থাকে। তানজানিয়ায় এতো বড় তানজানিয়াট আগে কখনো পাওয়া যায়নি। এর আগে সবচেয়ে যে বড় পাথরটি পাওয়া গিয়েছিল, সেটির ওজন ছিল তিন কেজি ৩০০ গ্রাম। স্থানীয় ভূতাত্ত্বিকেরা জানিয়েছেন, আগামী ২০ বছর এই পাথর সরবরাহ করতে পারবে তানজানিয়া।

এদিকে এই পাথর পেয়ে লাইজার জানিয়েছেন, একটি বড় গরু জবাই করে খাওয়াবেন সংশ্লিষ্ট সবাইকে। আর এই অর্থের একটি বড় অংশ সমাজের উন্নয়নে খরচ করার ঘোষণা দিয়েছেন ৩০-এর বেশি ছেলেমেয়ের এই বাবা। তিনি জানিয়েছেন, তিনি পড়াশোনা করতে পারেননি। তাই বাড়ির পাশে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করবেন, যাতে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা পড়াশোনা করতে পারে।

হঠাৎ ধনী বনে যাওয়া লাইজার আরো বলেছেন, তার জীবনযাপনের কোনো বদল হবে না। তিনি এই খনি খননের ব্যবসা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান। এছাড়া একটি বিপণিবিতান গড়ে তোলার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশিরা এখন কোন কোন দেশে যেতে পারবে?

0

করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের সাধারণ যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তবে খুব জরুরি প্রয়োজনে অনেকে বিশেষ ফ্লাইটে নানা দেশে যাতায়াত করছেন। কবে স্বাভাবিক হবে এ পরিস্থিতি? এটি নির্ভর করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ওপর।

ভারত

চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে কিছু দেশের সাথে ভারতের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যোগাযোগ শুরু হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে দেশটির বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি কোন ঘোষণা আসেনি।

নানা কাজে বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ ভারত যায়। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসা, চিকিৎসা এবং প্রমোদ ভ্রমণ। কিন্তু ভারতের সাথে বাংলাদেশের সবগুলো স্থলবন্দর এখন মানুষ আসা-যাওয়ার জন্য বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতে সব ধরণের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, বাংলাদেশিদের জন্য যাতায়াত একেবারে উন্মুক্ত করা না হলেও কিছু কিছু বিষয় অগ্রাধিকার পেতে পারে। 

ইউরোপ

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বিদেশিদের আগমনের জন্য তাদের বিমান চলাচল শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বাংলাদেশে এই তালিকায় নেই। 

শুধু বাংলাদেশই নয়, আমেরিকা, ব্রাজিল এবং রাশিয়াও এই তালিকায় নেই। কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-

১. যেসব দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কম। অর্থাৎ যেসব দেশে এক লাখ মানুষের মধ্যে ১৬ জনের কম সংক্রমিত হয়েছে সেসব দেশের নাগরিকদের ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন,

২. যেসব দেশে সংক্রমণের হার নিচের দিকে,

৩. যেসব দেশে সামাজিক দূরত্বের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী স্বল্প সময়ের জন্য যারা সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করতে চান তাদের জন্য একটি উপায় আছে। যারা জরুরি ব্যবসা কিংবা অফিসিয়াল কাজে সিঙ্গাপুর যেতে চান তাদের জন্য রয়েছে এই বিশেষ ব্যবস্থা।

এই ব্যবস্থাটিকে বলা হয় গ্রিন/ফাস্ট লেন অ্যারেঞ্জমেন্ট। এর আওতায় একটি সেফ ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হবে। এটি ছাড়া সিঙ্গাপুরে ঢোকা যাবেনা।

এছাড়া সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে স্বল্প সময়ের জন্য সেখানে যাওয়া যাবে।

যেসব বিদেশী নাগরিক স্বল্প সময়ের জন্য সিঙ্গাপুর সফর করবেন তাদের জন্য কিছু নির্দেশনা দেয়া আছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে।

সিঙ্গাপুর সরকার দেশের অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রা ধীরে-ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় আনার কাজ শুরু করেছে। তবে যারা স্বল্প সময়ের জন্য সিঙ্গাপুর ভ্রমণে যেতে চান তাদের ক্ষেত্রে এখনো বাধা রয়েছে।

১৭ই জুন থেকে যারা সিঙ্গাপুরে যাবেন স্বল্প সময়ের জন্য তাদের জন্য সিঙ্গাপুরে কোভিড-১৯ টেস্ট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সফরকারীকে টেস্টের খরচ বহন করতে হবে।

থাইল্যান্ড

যারা ব্যবসার কাজে থাইল্যান্ডে যাবেন তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এছাড়া যারা চিকিৎসার জন্য যাবেন তাদের ক্ষেত্রেও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে থাইল্যান্ড। এর পাশাপাশি রয়েছে দক্ষ কর্মী এবং বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী।

জানানো হয়েছে, যারা থাইল্যান্ড যাবেন তাদের ক্ষেত্রে ‘কোভিড-১৯ মুক্ত’ সনদ থাকতে হবে এবং পাশাপাশি তাদের থাইল্যান্ডে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

এই শর্ত মেনে থাইল্যান্ড ভ্রমণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এরই মধ্যে ৫০ হাজার মানুষ রেজিস্ট্রেশন করেছে।

বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ প্রতিবছর পর্যটনের জন্য থাইল্যান্ড যায়। তবে দেশটি আপাতত পর্যটন ভিসা দিচ্ছে না।

মালয়েশিয়া

শুধু পর্যটনের জন্য বিদেশ থেকে এখন মালয়েশিয়া যাওয়া বন্ধ আছে।

বর্তমানে স্পাউস, বিজনেস এবং প্রফেশনাল ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাবে। তবে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশে মালয়েশিয়ার দূতাবাসের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

মালয়েশিয়া ঢোকার আগে বিমানবন্দরে তাদের অবশ্যই ‘কোভিড-১৯ মুক্ত’ সনদ দেখাতে হবে। যদি সেটি না থাকে তাহলে মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে কোভিড-১৯ টেস্ট করাতে হবে। সেজন্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা লাগবে।

যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের বিমান চলাচল এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে ঢাকা থেকে লন্ডন যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ মুক্ত সনদের প্রয়োজন নেই। তবে একটি হেলথ ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে।

এছাড়া লন্ডনে পৌঁছানোর পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তবে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর আগে যারা ভিসা পেয়েছিলেন তারাই এখন যেতে পারছেন।

অতি প্রয়োজনীয় না হলে মহামারির এই সময় নতুন করে ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্র

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো বিধি-নিষেধ নেই। ঢাকা থেকে যেসব এয়ারলাইন্স ফ্লাইট চালু করেছে তাদের মাধ্যমে ভ্রমণ করা যাবে।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের একটি সূত্র জানিয়েছে করোনাভাইরাস মহামারির সময় নতুন কোন ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে না। যাদের পুরনো ভিসা আছে শুধু তারাই ভ্রমণ করতে পারবেন। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

করোনাভাইরাস বিকল করে দিচ্ছে ফুসফুস?

ব্রিটেনে কোভিড-১৯ যে গুরুতর আক্রান্ত হয়ে সেরে উঠেছে, এমন হাজার হাজার মানুষকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তাদের ফুসফুস চিরকালের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য।

ব্রিটেনে চিকিৎসকরা বিবিসিকে বলেছেন, যারা করোনাভাইরাসে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তারা আশঙ্কা করছেন, তাদের একটা বড় অংশের ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে, যাকে বলা হয় পালমোনারি ফাইব্রোসিস।

ফুসফুসের এই ক্ষতি থেকে সেরে ওঠা যায় না এবং এর উপসর্গগুলো হলো মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, কাশি ও ক্লান্তিবোধ।

ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অধীনে সেরে ওঠা রোগীদের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেওয়ার ও পুর্নবাসনের জন্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

ইংল্যান্ডের একজন ট্যাক্সিচালক, কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর যার অবস্থার অবনতি হয় এবং ১৩ দিন ভেন্টিলেটারে থাকাসহ প্রায় চার সপ্তাহ যাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়, তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এরকম একটি পুর্নবাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও দুই সপ্তাহ।

সেরে ওঠার ছয় সপ্তাহ পর এপ্রিলের মাঝামাঝি বাসায় ফিরে অ্যান্টনি ম্যাকহিউ এখনো সিঁড়ি ভাঙতে বা ছোটখাট সহজ কাজ করতে গিয়ে হাঁপিয়ে পড়ছেন। নিচু হতে গিয়েও তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

ফুসফুসে আস্তরণ

হাসপাতালে সিটি স্ক্যানে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার দুটি ফুসফুসের ওপরই একটা সাদা কুয়াশার আস্তরণ তৈরি হয়েছে, সেটি অনেকটা ভাঙা কাঁচের মতো দেখতে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটা করোনাভাইরাস আক্রমণের একটা বৈশিষ্ট্য।

করোনাভাইরাসে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হলে শরীরের প্রতিরোধী ব্যবস্থা যখন অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন এর ফলে প্রচুর শ্লেষ্মা, জলীয় পদার্থ এবং কোষ তৈরি হয়, যা ফুসফুসে যে বাতাস চলাচলের থলিগুলো আছে যাকে অ্যালভিওলি বলা হয়, সেগুলোকে ভর্তি করে ফেলে। এটা যখন হয়, তখন নিউমোনিয়া দেখা দেয় এবং সাহায্য ছাড়া মানুষের পক্ষে নিঃশ্বাস নেওয়া সম্ভব হয় না।

আক্রান্ত হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর নেওয়া ম্যাকহিউয়ের এক্স-রে-তে দেখা গেছে, তার ফুসফুসের ওপর একটা সাদা ছায়ার মতো স্তর তৈরি হয়েছে যেটাকে ডাক্তাররা বলছেন, পালমোনারি ফাইব্রোসিস বা ফুসফুসে ক্ষত সৃষ্টির প্রাথমিক লক্ষণ।

ব্রিটিশ সোসাইটি অফ থোরাসিক ইমেজিং-এর একজন সদস্য এবং রয়াল কলেজ অফ রেডিওলজিস্টের উপদেষ্টা ড. স্যাম হেয়ার বলেন, ‘সাধারণত এ ধরনের ভাইরাস সংক্রমণের পর ছয় সপ্তাহ হয়ে গেলে ফুসফুসের অবস্থা আবার আগের জায়গায় ফিরে যাওয়ার কথা, অন্তত চিকিৎসকরা সেটাই আশা করেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেটা হয়নি এবং সেজন্যই এটা উদ্বেগের কারণ।’

পালমোনারি ফাইব্রোসিস কী?

পালমোনারি ফাইব্রোসিস এক ধরনের রোগ, যেখানে ফুসফুসের নরম অংশগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এতে ফুসফুসের কলাগুলো (টিস্যু) মোটা ও শক্ত হয়ে যায়, ফলে ফুসফুসে বাতাসের থলিগুলো ঠিকমত কাজ করতে পারে না।

কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে এর ফলে নিঃশ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে এবং ক্লান্তিবোধ দেখা দেয়। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে অন্য নানা ধরনের ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই রোগ সারে না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে অর্থাৎ দিনে দিনে এই রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

কোভিড-১৯ এর ফলে ফুসফুসের যে ক্ষতি হয়, তা নিয়ে গবেষণার কাজ এখনো খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।

ধারণা করা হচ্ছে, যাদের হালকা উপসর্গ হয়, তাদের ক্ষেত্রে স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, বিশেষ করে যাদের নিবিড় পরিচর্যায় রাখার দরকার হচ্ছে বা যাদের সংক্রমণ খুবই গুরুতর পর্যায়ে হচ্ছে, তাদের ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে।

মার্চ মাসে চীনে চালানো এক জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, সেরে ওঠা ৭০ জন করোনা রোগীর মধ্যে ৬৬ জনেরই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও ফুসফুসের নানা সমস্যা রয়ে গেছে।

ব্রিটেনের রেডিওলজিস্টরা সেরে ওঠা রোগীদের প্রাথমিক স্ক্যান পরীক্ষার ভিত্তিতে বলছেন, যারা কোভিডে বেশি অসুস্থ হচ্ছে, তাদের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আশঙ্কা বেশি।

ড. হেয়ার বলেন, ‘সেরে ওঠার ছয় সপ্তাহ পর যেসব রোগীর ফুসফুসের স্ক্যান আমরা দেখেছি, তার থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রোগীর ফুসফুসে ক্ষত তৈরির লক্ষণ পরিষ্কার।’ 

অন্য রেডিওলজিস্টরাও বিবিসিকে একই উদ্বেগের কথা বলেছেন, তারাও একই প্যাটার্ন দেখছেন।

এর আগে যে দুটি করোনাভাইরাস সংক্রমণ আমরা দেখেছি, সার্স এবং মার্স-তাতে ২০ থেকে ৬০ শতাংশ রোগীর পালমোনারি ফাইব্রোসিস ধরনের কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হয়েছিল।

তবে সার্স ও মার্স তুলনামূলকভাবে আরও সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ এর জীবাণু সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে।

ড. হেয়ার বলেন, ‘আমার মূল উদ্বেগটা হল কোভিড-১৯ বিশাল একটা জনসংখ্যাকে সংক্রমিত করেছে। এই ভাইরাস এত মানুষকে আক্রমণ করেছে, ফলে কত মানুষকে যে দীর্ঘমেয়াদে এই ভাইরাস পঙ্গু করে দিয়েছে তার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বিশাল।’

ভবিষ্যৎ চিকিৎসা

ফুসফুসের ফাইব্রোসিস বা ফুসফুসের দেয়াল মোটা হয়ে যাওয়া সারানো যায় না, কারণ ফুসফুসের কোষ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা চিরস্থায়ী হয়। তবে নতুন ওষুধ দিয়ে এই ক্ষতির মাত্রা কমানো যেতে পারে। হয়ত তা কিছুটা বিলম্বিত বা আটকানোও সম্ভব হতে পারে, তবে তার জন্য এই সমস্যা সময়ে ধরা পড়তে হবে।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য গবেষণা বিষয়ক জাতীয় ইন্সটিটিউটের গবেষক ও অধ্যাপক জিসলি জেনকিন্স বলেন, ‘সমস্যাটা কতটা গুরুতর তা বোঝা দরকার এবং জানা দরকার ঠিক কখন এটা আটকাতে ওষুধ দেওয়া দরকার। আমাদের জীবদ্দশায় এর আগে একই সাথে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ফুসফুস এ ধরনের আঘাতের মুখোমুখি হয়নি।’

কাজেই করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মূল্যায়ন করা এবং তাদের এই ক্ষতি কমাতে সাহায্য করা যায় কি না, সেটাই এখন গবেষক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের সামনে আরেকটা বড় চ্যালেঞ্জ।

৩৬ বিলিয়ন ডলার করোনাকালেও রিজার্ভে রেকর্ড

করোনার সংকটের মধ্যে গত অর্থবছরের শেষ মাসে জুনে তিন দফায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন রেকর্ড গড়েছে। প্রায় তিন বছর পর ৩ জুন রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। এর পর ২৪ জুন ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। সর্বশেষ ৩০ জুন ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ বিদায় ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, আমদানি-রপ্তানি কম থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার আয় যেমন কম ছিল তেমনি ব্যয়ও কম ছিল। তবে শেষ সময়ে এসে রেমিট্যান্স বেড়েছে হু হু করে। জুনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। গত বছরের জুনের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আসেনি। আগের অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেমিটেন্স আসে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। অন্যদিকে করোনার কারণে বিশ^ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে ঋণ দিয়েছে। ফলে রিজার্ভ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, করোনার শুরু দিকে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলো ডলার কিনেছে। কিন্তু শেষের দিকে এখন ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখায়, ২৯ জুন রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার

৫৯১ কোটি ডলার। আর ৩০ জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৭১ কোটি ডলার।

২০১৭ সালের ২২ জুন রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। অর্থাৎ তিন বছরে রিজার্ভ বেড়েছে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার। আর জুন মাসেই রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। ২০১৫-১৬ সালে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৬ কোটি ডলার। পরের বছর হয় ৩ হাজার ৩৪৯ কোটি ডলার। পরের দুই বছর ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের ঘরে রিজার্ভ ওঠানামা করেছে।

প্রায় ৩ মাস পর সালমনের বাগান বাড়ি ছাড়লেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ!

0

প্রায় ৩ মাস পর সালমন খানের বাগান বাড়ি থেকে বের হলেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। আজ মঙ্গলবার ভারতের সংবাদমাধ্যম জি নিউজের প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাছের এক বন্ধুর ডাকেই সালমনের বাগান বাড়ি থেকে বের হন জ্যাকলিন। লকডাউনের মধ্যে জ্যাকলিনের ওই বন্ধু মুম্বাইতে একা পড়ে যান। তাকে সাহায্য করতেই মুম্বাইতে ফেরেন শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত এই বলিউড অভিনেত্রী।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লকডাউনের আগে সালমানের বোন অর্পিতা খান শর্মার ছেলে আয়ুশের জন্মদিন উপলক্ষে সালমনের সঙ্গে তার বাগান বাড়ি পানভেল ফারমহাউসে যান জ্যাকলিন। এসবের মধ্যে লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে আর বের হতে পারেননি জ্যাকি।

ফলে পানভেলের বাগান বাড়িতে বসেই সালমনের সঙ্গে মিউজিক ভিডিওর শ্যুটও করেন জ্যাকলিন। প্রায় তিন মাস খান পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে অবশেষ মুম্বাইতে ফিরেছেন জ্যাকলিন।

উল্লেখ্য, সালমান ও জ্যাকলিন এর আগে কিক ও রেস-থ্রি নামক দুটি সিনেমায় একসঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়েছেন।