Thursday, April 9, 2026
Home Blog Page 56

কিংবদন্তি কবিয়াল হায়দার আলী বয়াতির প্রস্থান

0

মায়ের কাছে শুনেছি, যখন আমি সাত আট বছরের ছিলাম তখন আমাদের পুরান বাড়িতে বাপ-চাচারা কয়েকজন মিলে ‘হাদুরিয়ার জারি’ বা হায়দার আলী বয়াতির জারি নিয়ে এসেছিলেন। তার সাথে ছিলেন মান্নান, মন্টু ও হাবু। তাদের ৪ জনের দল। এ নামগুলো মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া। এরকম জারি ও পালা গানের আসর জমতো প্রায় বছরই। মা আমাকে সাথে করে রাতের প্রথম ভাগ জারি শুনেছিলেন। সে চিত্র আমার আবছা আবছা মনে আছে। সেই থেকে হাদুরিয়ার জারি বা ‘হায়দার আলী বয়াতি’ নামের সাথে পরিচয় হয়।

পরবর্তীতে হাটে-বাজারে হায়দার আলী বয়াতির কথা শুনলে যতো তাড়াহুড়োই থাকতো একবার এক দন্ড না দাঁড়িয়ে, অনুষ্ঠান উপভোগ না করে আসতাম না।

গ্রামে শৈশব কৈশোর গ্রামে পার করাতে স্বর্ণালী সময়ের বহু জিনিস আমার উপভোগ করার সৌভাগ্য হয়েছে। উদোল জলে সাঁতার দেয়া, শ্রী খেলা, ডুব দিয়ে জলের তলে ইট বা পাথর লুকানো, গায়ে কাদা মেখে মেঘ-বৃষ্টি খেলা, পিছলা দেয়া, সুতোয় মাঞ্জা দিয়ে ঘুড়ি উড়ানো, জ্বীম ধরানো ঘুড়ি কাটাকাটি, হা-ডু-ডু খেলা, ধানের খড়ের গাদার ভেতর লুকানো, রীম বা টায়ার দৌড়াতাম, গাছে উঠে বাঘ হরিণ খেলাসহ আরো কত খেলা ও হাসি আনন্দ ফুর্তি আমার শৈশব কৈশোর জীবনে ছিলো তা বলে কয়ে শেষ করা যাবে না।

আমার বাবার বাড়ির অবস্থান এত সুন্দর সুখকর স্থানে যে, ইচ্ছে করলেই পূর্বে দালালবাজার, পশ্চিমে রাখালিয়া বাজার ও দক্ষিনে মুন্সিরহাট বাজার যাওয়া যায়। এর পাশাপাশি চরের দিকে চৌধুরী বাজার, রায়পুরের দিকে বাসা বাড়ি বাজার, দক্ষিনে সোজাসোজি রসুলগঞ্জ ও নবীগঞ্জ বাজার এবং লক্ষ্মীপুর তো এখন যানবাহনের কারণে কাছে এসে গেছে।

আমার শৈশব কৈশোর মানে এক স্বর্ণযুগ পেরিয়ে অন্ধকার যুগে এসেছি। আহা! তখন শৈশব-কৈশোরে টেপরেকর্ডার ও রেডিওতে গান শুনতাম। টেলিভিশন তখনও ছিল না গ্রামে। শীতের মৌসুমে গ্রামে যাত্রাপালার আয়োজন হতো। মহরম আলী বেপারী পুলের গোড়ায়, মেইলগেট, চৌধুরী বাজার, বাসা বাড়ি ও কামানখোলা নামক স্থানে প্রতিবছর যাত্রাপালার আয়োজন হতো। কখনো খোলা মাঠে, কখনো চারপাচে মুলি বাঁশের বেড়া দিয়ে টিকেট দিতো। আমি টিকেট কেটে যাত্রাপালা উপভোগ করতাম। যাত্রাপালায় কাসেম মালার প্রেম, রহিম রুপবান, সফর মুল্লুক বদিউজ্জামান ও গুনাই বিবিসহ আরো কত নাম ব্যঞ্জক নাটক মঞ্চস্থ করতো আগত যাত্রা শিল্পীরা তা শেষ নেই। আমি সেখানে সন্ধ্যার পূর্বে পৌঁছে যেতাম। স্কুলের পড়া ও বাড়ির কাজ সমাপ্ত করে সারারাত যাত্রা দেখে পরদিন সকালে আলো ফোটার পর বাড়ি ফিরে আসতাম। এমনি করে সার্কাস, হোন্ডা ও প্রাইভেটকার খেলা, পুতুল খেলা, নাগরদোলা, ঘোড়া ও হাতির পীঠে চড়া। সে কি আনন্দ করতাম তার ইয়ত্তা নেই।

প্রতি শুক্রবার সিনেমা হলে নতুন ছবি থাকতো, তা দেখতাম। কখনো যাত্রা বা সিনেমায় গেছি এ দোষে স্কুলে মার খেতে হয় নি। অন্যান্য ছাত্রদের অভিযোগ ছিল তাতে করেও আমার যথাযথ বাড়ির কাজ ও পড়া পাওয়ায় স্যারেরা আমাকে প্রহার করতে পারেননি।

হাটে বাজারে হায়দার আলী বয়াতি মানুষ জমায়েত করে লোকজ গানের আসর জমাতেন। একে অপরকে তীর্যক কথায়, হাসি ঠাট্টার ছলে জারি বা পালাগানের জমায়েত করতেন। এতে হাটে আসা মানুষেরা তাদের মোহময়ী কথার জাদুতে আকৃষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। আমিও সাথে কাউকে নিয়ে দুজনের জোট বেঁধে এরকম হাটের দিন যেতাম গান-বাজনা শোনার জন্য।

হায়দার আলীর মুখের বাম পাশে কাটা দাগ ছিল। সুঠাম ও রোদে পোড়া শ্যাম বর্ণের বিশালদেহী। ধবধবে শাদা পাঞ্জাবি লুঙ্গি পরে বিভিন্ন হাটে বাজারে আসর জমাতেন। আমি তাকে বেশিরভাগ দেখতাম রাখালিয়া বাজার ধানহাটায়, কিছু কিছু সময় দালালবাজার ও মুন্সিরহাট দেখতে পেতাম। কয়েক বছর পূর্বেও তার শিষ্যদের লক্ষ্মীপুর কোর্টের সামনে এবং স্টেশনে দেখা গেছে আসর জমাতে।

জারি- পালার ফাঁকে ফাঁকে একে অপরকে ঘায়েল করার জন্য, এতো সুন্দর হাস্যরসে ব্যঙ্গ করে কাবু করার চেষ্টা করতেন। মাঝে মাঝে তারা একে অপরকে রাগ করে নাকের শ্লেষ্মা ছুড়ে মারতেন। (আদতে তা পূর্ব থেকে হাতে রাখা কসাইদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা গরুর তৈলাক্ত চর্বি জাতীয় কিছু একটা।) ছুড়ে মারার সাথে সাথে তা গালে আষ্টেপৃষ্টে লেগে থাকতো। সেই চর্বিজাতীয় জিনিসটা যার গালে পড়তো তিনিও কমেডি স্টাইলে হাতে নিয়ে মুখ ভেংচিয়ে এত সুন্দর উপস্থাপনায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে সুর উঠাতেন, পালা ধরতেন, নানা রকমের শক্ত শক্ত প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতেন তাতে দর্শকরা মানে আমরা ছোট বড় সবাই হাসিতে ফেটে পড়তাম। আমরা মজা পেতাম। এই বুঝি প্রতিপক্ষ কাবু হলো!

হায়দার আলীর জারির ভক্ত এতটাই ছিলাম যে, তার সাথে কোন যন্ত্রে কে ছিলেন তা মুখস্ত হয়ে গেছিলো। হারমোনিয়ামে থাকতেন হাবিব উল্লাহ ও আবুল্লা, ঢোলে থাকতেন হেমচন্দ্র বাবু, জুড়ীতে মমিন ও হায়দার আলী বয়াতি নিজেই, বাঁশীতে সাধন বাবু। দলের প্রধান থাকতেন হায়দার আলী বয়াতি বুদ্ধিতে ও উপস্থিত পালা তৈরি করার কারণে। যেসব পালা, জারি সারি কিসসা, পু্ঁথি উপস্থিত তৈরী করে দর্শকদের মনোরঞ্জনের দিতেন তা যদি লিখে রাখতেন হায়দার আলী বয়াতি বা অন্য কেউ তা আজ বাংলা সাহিত্যে যোগ হতো দারুন সম্ভারে। আমাদের অহংকার করার মতো কিছু একটা তৈরী হতো। আহ! কি অবহেলায় হারিয়ে গেছে এসব লোকজ রত্ন ও রত্নাকর।

আমরা গভীরভাবে শোকাহত। চলে গেলেন জারি-সারি পালাগানের কিংবদন্তি শিল্পী হায়দার আলী বয়াতি। চলে গেলেন না ফেরার দেশে জারি-সারি-পালা ও কবি গানের কিংবদন্তি সাধক হায়দার আলী বয়াতি। ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ বুধবার ভোর ৫-৩০ মিনিটের দিকে রাযপুর উপজেলার মিতালী বাজার সংলগ্ন গাইয়ার চর গ্রামের ওনার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না-লিল্লাহ!

তিনি দীর্ঘদিন ধরে হার্ট ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর স্ত্রী, এক মেয়ে, তিন নাতি সহ অসংখ্য স্বজন গুনগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর।

এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ, খেলাঘর লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা ও অন্যতম ইতিবাচক কাগজ আবীর আকাশ জার্নাল পাঠক ফোরামের পক্ষ থেকে শোক ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে।

মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। শোকাহত পরিবারকে শোক সইবার শক্তি দিন।

কবিয়াল হায়দার আলী বয়াতি একজন কিংবদন্তি লোকসঙ্গীত শিল্পী। ১৯৫০’র দশক থেকে প্রায় ৫০ বছর বৃহত্তর নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি হাট-বাজার, শহর-বন্দর ও গ্রামীন জনপদে জারি গান, সারি গান; মারফতি, শরিয়তি, পীর-মুর্শিদী, আল্লাহ-নবীর (সাঃ) গুনগান এবং দেহতত্ব, সুফিতত্ব, মনঃশিক্ষা, মিলনতত্ব, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলী, পালাগান ও কবি গানের লড়াই দিয়ে হাজার হাজার ভক্ত, দর্শক-শ্রোতা ও ভাব-শিষ্যের মন জয় করেছেন। বিশেষ বিশেষ আয়োজনে দর্শক-শ্রোতাদের সারারাত মাতিয়ে রাখতেন।

কিংবদন্তি কবিয়াল কুমিল্লার হারান শীল ও ঢাকার লনী সরকার এর সাথে ঐসব অঞ্চলের জনপদে পালাগান ও কবি গানের টানা ২/৩ দিনের লড়াই করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

লকডাউনে ছেলের বিয়ের আয়োজন, অর্থদন্ড দিলেন ইউপি সদস্য

0

নোয়াখালীর সদরে কঠোর লকডাউনকে তোয়াক্কা না করে ছেলের বিয়ের আয়োজন করায় এক নারী ইউপি সদস্যকে (মেম্বার) অর্থদন্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ৯নং কালাদরাপ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালাদরাপ গ্রামের রৌশন মেম্বারের বাড়িতে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতিমা সুলতানা।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতিমা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কালাদরাপ ইউনিয়নের ১,২,৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রৌশন আক্তার। তার ছেলে তারেক হোসেন রাব্বির ঢাকায় চাকরি করেন। এ কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করে নিজের পাশের বাড়িতে ছেলের বিয়ের আয়োজন করেন মা। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বরের মা নারী ইউপি সদস্য রৌশন আক্তারকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন এবং মুচলেকা নেন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন সুধারাম থানা পুলিশ।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতিমা সুলতানা বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে বিয়ের আয়োজন করায় ২০১৮ সালের সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন অনুযায়ী অর্থদন্ড করা হয়েছে। লকডাউন চলাকালে সবাইকে অবশ্যই সরকারি বিধিনিষেধ মানতে হবে। কেউ বিধিনিষেধ অম্যান্য করলেই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে একদিনে আরও ২২৮জনের করোনা শনাক্ত

0

নোয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ২২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ৭২৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় এ ফল পাওয়া যায়। এতে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩১.৪৪শতাংশ।

এতে জেলায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পনের হাজার ৩৩১ জন। মোট আক্রান্তের হার ১৩.৭০ শতাংশ। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় করোনায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় এই নিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৯ জনে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় মারা যায় ৩৪ জন, সুবর্ণচরে ৫ জন, বেগমগঞ্জে ৬০ জন, সোনাইমুড়ীতে ১৩ জন, চাটখিলে ২০ জন, সেনবাগে ২০ জন, কোম্পানীগঞ্জে ৪ জন, কবিরহাটে রয়েছে ২৩জন। মৃত্যুর হার ১.১৭ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুম ইফতেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় এই সব তথ্য তাদের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টেও প্রকাশ করে।

ডা. মাসুম ইফতেখার জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৫৯জন, বেগমগঞ্জ ১৫ জন,সুবর্ণচর ৭জন,হাতিয়া ৬জন, চাটখিলে১৮ জন, সোনাইমুড়ী ১৫জন, কোম্পানীগঞ্জে ৪৭ জন, সেনবাগে ৪৬, কবিরহাটে ১৫ জন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, এছাড়া সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৩৪৭ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৬০ দশমিক ৯৭শতাংশ।

এদিকে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৮০৫ জন। কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে (শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম) ভর্তি রয়েছেন ১১৪ জন ও আইসোলেশনে গত ২৪ ঘন্টায় কোন রোগী চিকিৎসাধীন নেই।

অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক

0

নোয়াখালী বেগমগঞ্জে পুলিশ ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহত গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসি রুপা (২৫) সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা গ্রামের মোহাম্মদ.ওয়াহিদুলের মেয়ে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকালে ১১টার দিকে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

এর আগে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের জমীস উদ্দিনের নতুন বাড়ি থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত গৃহবধুর স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃত সালাউদ্দিন সোহেল (৩৫) উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাটোয়ারী বাড়ির মৃত আবুল হাশেমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ৩ সন্তানের জননী বর্তমানে ৪মাসের অন্তঃসত্ত্বা রুপা পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বসত ঘরের আাঁড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ পারিবারিক কলহের জের ধরে রুপাকে তার স্বামী হত্যা করে ঘরের আঁড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পরে খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় এনে রাখে। একই সাথে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য স্বামী সোহেলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

নড়াইলে সরাজ কুমার বসুর আশু রোগমুক্তি কামনায় প্রার্থনা সভা

0

নড়াইলে সরাজ কুমার বসুর আশু রোগমুক্তি কামনায় প্রার্থনা সভা। শ্রী শ্রী বাঁধাঘাট দূূর্গা মন্দির প্রাঙ্গনে সাবেক সভাপতি বাবু শ্রী সরাজ কুমার বসুর আশু রোগমুক্তি কামনায় এক প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভার বাঁধাঘাট কমিটি সকল কর্মকর্তা ও সন্মনিত সদস্যবৃন্দ ও পাশাপাশি শ্রী শ্রী সর্বমঙ্গলা কালীমন্দির কমিটিকেও আমন্ত্রন জানানো হয়।

সভাপতিত্ব করেন বাঁধাঘাট কমিটির সন্মানিত সভাপতি বাবু শিশির কুমার বৈরাগী। সভায় রোগমুক্তি প্রার্থনা পরিচালনা করেন বাবু দীপংকর ভট্টাচার্য (ছোট)।

সভায় বাঁধাঘাট কমিটির সেক্রেটারি বাবু নিপু সরকার ও সর্বমঙ্গলা কালীমন্দির কমিটির সভাপতি বাবু শ্রী গৌর চন্দ্র গাইন (নিজ) আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন!উপস্হিত সর্বমঙ্গলা কমিটির সকলকে পরিচয় করিয়ে দেন সেক্রেটারি বাবু স্বপন কুমার ঘোষ।

গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে প্রাণ গেল মোটর সাইকেল চালকের

0

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বেপরোয়া গতির মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে মোটর সাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অপর এক মোটর সাইকেল আরোহী গুরুত্বর আহত হয়েছে।

নিহত আব্দুল মান্নান উপজেলার ১নং হরণী ইউনিয়নের কাজরে টেক গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে। আহত মো. আফছার একই ইউনিয়নের রুহুল আমিনের ছেলে।

বুধবার (২৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের জাহাজ মারা টু নলচিরা সড়কের মুলা মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,আব্দুল মান্নান ও আফছার মার্কেনন্টাইল নামে একটি মালবাহী জাহাজে কাজ করে। জাহাজটি হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে নোঙর করলে তারা দুইজন মোটর সাইকেল যোগে জাহাজের জন্য বাজার করতে স্থানীয় ওছখালী বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। যাত্রা পথে মোটর সাইকেলটি মুলা মার্কেট এলাকায় পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে ধাক্কা খায়।

এতে চালকসহ অপর মোটর সাইকেল আরোহী গুরুত্বর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল মান্নানকে মৃত ঘোষণা করে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নড়াইলের ডিসি’র নির্দেশে ১৮ টি মামলায় ১৩ হাজার ৯’শ টাকা জরিমানা

0

নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনারগণ (ভূমি) ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়েছেন।

জেলার তিন উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালত। ১৮ টি মামলায় ১৩ হাজার ৯’শ টাকা জরিমানা আদায় করেছে।

জানাগেছে, বুধবার দিনব্যাপী জেলায় ভ্রাম্যমান আদালত এর মাধ্যমে ১৮ টি মামলায় ১৩ হাজার ৯’শ টাকা জরিমানা করা হয়। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইন ২০১৮ দণ্ডবিধি ১৮৬০ পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুযায়ী তাদের এ জরিমানা করা হয় বলে জানাগেছে।

ভ্রাম্যমান আদালতের সাথে আনসার, পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্নস্থানে মাস্ক বিতর করা হয়।

বরের বয়স বেশী হওয়ায় যুবতীর আত্মহত্যা

0

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে এক গৃহবধূ বাবার বাড়িতে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে।
নিহত লিমা আক্তার (২৮) উপজেলার নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মদিনা নগর গ্রামের জাফর উদ্দিনের মেয়ে।

বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে পুলিশ মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিমা আক্তারের সাথে ঢাকা থেকে নিঝুম দ্বীপে আসা মো.ননু মিয়া (৭১) নামে এক বৃদ্ধের সাথে বিয়ে দেন তার মা মিনারা বেগম। এ বিয়েতে লিমার কোন মত ছিলনা। কিন্তু তার মা মিনারা বেগম জোরপূর্বক তাকে ওই বৃদ্ধের সাথে বিয়ে দেয়।

এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লিমার সাথে ঝগড়া বেধে যায় তার মায়ের। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সে বিষ পানে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে নিঝুম দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে এনে রাখে। তারপর দুপুরের দিকে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। তবে নিহতের মা মিনারা বেগম দাবি করেন, তার মেয়ে শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।

নিঝুম দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সৌরজিৎ বড়ুয়া জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহতের মা একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

করোনা প্রতিরোধে সরকারকে সহযোগিতা করুন: ওবায়দুল কাদের

0

মহামারি করোনার এই কঠিন পরিস্থিতি রোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলমত নির্বিশেষে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে বুধবার (২৮ জুলাই) মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর হার প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়ে বেশি, এমন বাস্তবতায় মানুষের জীবনের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। অনেকে লকডাউন শিথিলের কথা বললেও এমন সংকটকালে জীবনের সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাই মনে রাখতে হবে, কারো কারো অবহেলায় পরিস্থিতি ক্রমে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’

দেশের মানুষের সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার প্রতি আস্থা রাখার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

দেশে ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই, মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত করা হয়েছে ভ্যাকসিন রোডম্যাপ। প্রধানমন্ত্রী জনমানুষের আস্থা পূরণে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং করোনার এ সংকটে তিনি বিনিদ্র রাত্রী যাপন করছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন-অর্জন ও সমৃদ্ধিতে যারা লাভবান হয়েছে, বিশেষ করে সমাজের ধনী শ্রেণির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই সংকটে অন্তত কিছু সহযোগিতা নিয়ে হলেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।

করোনার এ সংকটকালে আ‘লীগের প্রতিটি ইউনিট অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, কেথাও গতিহীনতা নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তসমূহ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি দলের উপকমিটি ও সহযোগী সংগঠনগুলো সক্রিয়তার সঙ্গে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।’

গোপালগঞ্জে কৃষকদের মাঝে সেচ পাম্প বিতরণ

0

জমিতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও ধানের ফলন বাড়াতে গোপালগঞ্জে কৃষকদের মাঝে সেচ পাম্প বিতরণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ।

বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার বেদগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার একটি ব্লকের কয়েকজন কৃষকের হাতে একটি সেচ পাম্প তুলে দেয়া হয়। এসময় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের সদস্য মুরাদ হোসেন, অচিন্তিত বিশ্বাস, প্রতিলতা মন্ডল, জয়া বাইন রাজিব ইসলাম, স্বাধীন ইসলামসহ এলাকার কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষক মো: আব্বাস আলী মোল্লা, মো: কালাম মোল্লা, মো: নূর ইসলাম মোল্লা বলেন, সেচ পাম্প না থাকায় খাল বিল শুকিয়ে গেলে আমাদের জমিতে পানি দিতে সমস্যা হয়। তবে পাম্প পাওয়ায় আমাদের এখন সুবিধা হলো। খরা মৌসুমেও আমরা সময় মত জমিতে পারি দিতে পারবো। এতে জমিতে ফসলের ফলন বেশি হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের সদস্যরা বলেন, এ সেচ পাম্পের মাধ্যমে কৃষকেরা তাদের জমিতে সময় মত পানি সরবরাহ করতে পারবে। এতে তাদের ফসলের ফলন বৃদ্ধি পাবে। আগামীতেও আমাদের পাম্প বিতরণ অব্যহত থাকবে।