Thursday, April 9, 2026
Home Blog Page 53

ভারতে পাচার হওয়া ১০ নারী-পুরুষ দেশে ফিরেছে

0

ভাল কাজের প্রতিশ্রুতির লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ভারতে পাচার হওয়া ১০ বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) তাদেরকে ট্রাভেল পারমিটে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব শুক্রবার (৩০ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পাচারের শিকার যারা স্থলপথে ফেরত আসেন। তাদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে পোর্টথানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে সেখান থেকে আইনি সহয়তা দিতে এনজিও সংস্থা তাদের গ্রহণ করে।

পাচার হওয়া নারী-পুরুষেরা হলেন— রাসেল ফকির, আয়েশা বেগম, রোকসনা বেগম, মাহমুদা আক্তার, নয়ন হাওলাদার, সাজু চন্দ্র নাথ, খোকন, সাগর হাওলাদার, গোলাপ মিয়া ও শাকিল । এদের বাড়ি যশোর, নড়াইল, খাগড়াছড়ি ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে পাচার হওয়া সবাই দরিদ্র পরিবারের। ভালো কাজ ও ভালো আয়ের কথা বলে এদেরকে ভারতে পাচার করে তারা। কিন্তু সেখানে জোরপূর্বক বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার করা হতো তাদের। এক পর্যায়ে এদের কেউ পালিয়ে পুলিশের হাতে ধরা দেয় আবার কাউকে পুলিশ পাচারকারীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করে। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে এদের আশ্রয় হয় ভারতের বেঙ্গালোর সেন্টাল জেলে। সেখানে সাজার মেয়াদ শেষে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়ায় ট্রাভেল পারমিটে এরা দেশে ফেরার সুযোগ পান।

কুষ্টিয়া করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে একদিনে আরো ৮ মৃত্যু

0

কুষ্টিয়া করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আশরাফুল আলম জানান, বর্তমানে হাসপাতালে মোট ২১৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। যাদের মধ্যে ১৭১ জন করোনায় আক্রান্ত ও বাকি ৪৩ জন উপসর্গ নিয়ে।

পিসিআর ল্যাব ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৪৭ জনের দেহে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার আশংকাজনকভাবে ৪২% শতাংশ।

এদিকে, সারাদেশে ১৪ দিনের লকডাউনের ৮ম দিন চলছে। কুষ্টিয়ায় ও তার ব্যাতিক্রম নয়। কুষ্টিয়া পুলিশ শহরের প্রবেশ পথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে মানুষকে ঘর হতে বের না হওয়ার জন্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী জেলার কাঁচা বাজারগুলো সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে।

ভোলায় নদী ভাঙ্গনে দেড় যুগের প্রতিশ্রুতি,করা হয়নি স্থায়ী সমাধান

0

ভোলায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন হুমকিতে রয়েছে ৩টি ওয়ার্ডে ৪টি গ্রাম। সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী ৪টি গ্রাম। গেল দের যুগেরও বেশি সময় ধরে তেঁতুলিয়ার ভয়াল ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে তীব্র ভাঙ্গনে ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে তেঁতুলিয়া।এতে করে হুমকির মুখে রয়েছে নদীর তীরবর্তী ৩টি ওয়ার্ড।ইতিমধ্যে তেঁতুলিয়ার ভাঙ্গনে বসতভিটা ও সহায় সম্পত্তি হারিয়ে ভেদুরিয়া ছেড়ে পাড়ি দিয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,ভেদুরিয়ার ইউনিয়নের পাশেই বহমান তেতুলিয়া নদী।গত দের যুগ ধরে তেতুলিয়ার ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। দিনের-পর-দিন নদী ভাঙ্গনের কারণে বসতভিটা ফসলি জমিসহ সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বিলীন হয়েছে তেতুলিয়ার গর্বে।

নদী ভাঙ্গনের কবলে প্রচীনতম ভেদুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর ভেদুরিয়া, চর ভেদুরিয়া, মধ্য ভেদুরিয়া এবং চর চটকিমারা এলাকা। চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র আকারে নদী ভাঙ্গন ভায়াবহ থেকে ভয়াল রুপ ধারণ করেছে। নদীর রাক্ষসী ছোবলে দিনের পর দিন এখানকার মানুষ হারাচ্ছে তাদের বসতভিটা ফসলি জমি। ভাঙ্গনের কবলে বসতভিটা, রাস্তাঘাট-ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

তাদের সাথে কথা বলে যানাযায়, এরই মধ্যে গত ১৫ দিনে অর্ধশতাধিক বসতঘর ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে তেতুলিয়া গর্বে।বসতভিটা সহায়-সম্পত্তি হারিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক হাজার পরিবার অসহায়ত্বের জীবন যাপন করছে।

কেউ কেউ আবার নদীর গর্বে ভিটেমাটি হারিয়ে সরকারি রাস্তার টংঘর উত্তোলন করে বসবাস করছে।জমি কেনার সামর্থ্য না থাকায় কারো ঠাই মিলে বিত্তবানদের জায়গায়।এ অবস্থায় ভাঙ্গন বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।তবে ভোলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা থাকলেও তাদের তৎপরতা নেই বল্লেই চলে।

আবার কেউ কেউ বলছেন,স্থানীয় এমপিরা নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বল্লেও বাস্তবে নেই কোন মিল। এ আসনে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দক্ষিণ বাংলার বিএনপি’র পরিচিত মুখ মরহুম মোশারেফ হোসেন শাহজাহান থেকে শুরু করে তরুণ জাতীয় রাজনীতিবিদ আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাবেক সফল বাণিজ্যমন্ত্রী ও বর্তমান এমপি তোফায়েল আহমেদ।

বর্ষিয়ান ও তরুণ নেতাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও দের যুগেও তেতুলিয়া নদীর ভাঙ্গন রোধে গ্রহণ করা হয়নি স্থায়ী পদক্ষেপ। যার ফলে দিনের পর দিন তেতুলিয়া গর্বে বিলীন হয়েছে মানুষের বসতভিটা ফসলি জমিসহ সরকারের উন্নয়নমূলক পাকা রাস্তা, ব্রীজ, কালবাট, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ৪,৫,ও৬ নাম্বার ওয়ার্ডে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট সংলগ্ন মোল্লা বাড়ি থেকে শুরু হয়ে ব্যাংকেরহাট বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটারের অধিক এলাকা জুড়ে রয়েছে নদী ভাঙন। তীব্র ভয়াল নদী ভাঙ্গনে এ বছরের বর্ষা মৌসুমে ইতিমধ্যে শতাধি এরও অধিক ঘর-বাড়ি নদী গর্বে বিলীন হয়েছে।বর্তমানে ভাঙ্গন মুখে রয়েছে ৪টি গ্রামের অন্তত ৫ শতাধিক পরিবার। এতে করে হতাশা আর আতঙ্কের মধ্যে দিন পাড় করছে তেঁতুলিয়া পাড়ে শত শত মানুষ।

ভাঙন কবলিত ৪টি গ্রামের মানুষ সহায় সম্বল হারিয়ে দুশ্চিন্তা আর সংকটের মধ্যে দিয়েই পাড় করছে দিন। নদীর ভয়াল এ রুপ দেখে অনেকেই সরিয়ে নিচ্ছে ঘর-বাড়ি।নদীর তীরের মানুষগুলো আতঙ্কগ্রস্ত হয়েই কাটাতে হয় নির্ঘুম রাত।

এলাকাবাসী মনে করছেন, অতি তাড়াতাড়ি তেঁতুলিয়ার ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে নদীগর্বে বিলীন হবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

আজ ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস

0

বাংলাদেশে ‘বাঘ বাঁচায় সুন্দরবন, সুন্দরবন বাঁচাবে লক্ষ জীবন’ আর বিশ্বে ‘তাদের বেঁচে থাকা আমাদের হাতে’ প্রতিপাদ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হবে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের অন্যতম আবাসস্থল সুন্দরবন-সংলগ্ন বাগেরহাট ও খুলনায় দিবসটি উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি নেই। বন বিভাগের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে এই দিবস পালনের কার্যক্রম।

এদিকে জরিপ অনুযায়ী গত চার বছরে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনে সর্বশেষ ২০১৫ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ক্যামেরা ট্র্যাকিং পদ্ধতিতে বাঘ জরিপে বাঘের সংখ্যা এখন ১১৪টি। চোরাশিকার বন্ধে স্মার্ট পেট্রোলিং চালুকরণসহ সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে সরকারের নানা উদ্যোগেও বিপদমুক্ত হতে পারছিল না সুন্দরবনের বাঘ। সুরক্ষার অভাবে বিপন্ন হয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ২০০৪ সালে যেখানে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০, সেখানে এখন বাঘ রয়েছে ১১৪টি। দেড় যুগেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৩২৬টি বাঘ কমে যাওয়া বা মারা যাওয়াকে উদ্বেগের সঙ্গে দেখা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৩৫০টি। ১৯৮২ সালের জরিপে দেখা যায় বাঘের সংখ্যা ৪২৫টি। ১৯৮৪ সালে সুন্দরবনের ১১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়। ২০১৮ সালে করা একটি জরিপের ফলাফলে বর্তমানে সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে ১১৪টি। ২০১৫ সালে ‘ক্যামেরা ট্র্যাকিং’ পদ্ধতিতে পরিচালিত জরিপে বাঘের সংখ্যা বলা হয়েছে ১০৬টি।

২০০৪ সালের জরিপের তথ্য অনুযায়ী ৪৪০টি বাঘের মধ্যে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ৮৯টি পুরুষ, ১৭০টি স্ত্রী এবং ১২টি বাঘ শাবক, বাগেরহাটের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় ৩২টি পুরুষ, ১২৮টি স্ত্রী এবং ৯টি বাঘ শাবকের অবস্থান জরিপে উল্লেখ করা হয়েছিল।

অর্থ্যাৎ দেড় যুগেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৩২৬টি বাঘ কমেছে সুন্দরবনে। আর কয়েক বছরে বেড়েছে মাত্র ৮টি বাঘ। তবে বর্তমানে সুন্দরবনের বাঘের আনাগোনা বাড়ছে। সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের অবাধ বিচরণ ও প্রতিনিয়ত বাঘের শাবকের দেখা মিলছে বলে জানান সুন্দরবনের জেলে-বাওয়ালিরা।

প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা বিভিন্ন সময়ে সুন্দরবনের বাঘের মৃত্যুর জন্য ৯টি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস), লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়া, মিঠাপানির অভাব, খাদ্যসংকট, বন ধ্বংস, বাঘের আবাসস্থলের অভাব, চোরাশিকারি, অপরিকল্পিত পর্যটন ও বনের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সুন্দরবন এশিয়ার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৃহত্তম আবাসভূমি। কিন্তু বন বিভাগ এই আবাসভূমিকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে পারেনি। সুন্দরবনকে বন্য প্রাণীদের জন্য নিরাপদ করা গেলে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে। বাঘ রক্ষায় আবাসস্থল সংরক্ষণ, বনের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের বিকাশ, বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ বাস্তবায়নে নানা সুপারিশ করেছেন তারা।

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আশঙ্কাজনক হারে সুন্দরবনে বাঘ কমেছে। এটা বাঘের জন্য একধরনের হুমকি। তবে বাঘ ও সুন্দরবনের বন্য প্রাণী রক্ষায় সরকার সুন্দরবনের ৫২ শতাংশ বনভূমিকে অভয়াশ্রম ও সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের যে শর্ত, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে বাঘের প্রজনন বাড়বে। প্রজনন বাড়লে বাঘও বাড়বে।

সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম আকন বলেন, বাঘের ওপর যেসব হুমকি আছে, তা বন্ধ করতে হবে। বাঘসহ বন্য প্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষকেও সোচ্চার হতে হবে। বন্য প্রাণী হত্যা, ক্রয়-বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, বিশ্ব বাঘ দিবসে প্রতিবছরই বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। গত বছরও সুন্দরবনের ৪টি রেঞ্জে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি।

এ ছাড়া তিনি আরও জানান, বাঘের প্রজনন, বংশবৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের অর্ধেকেরও বেশি এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঘ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। চোরাশিকারিদের তৎপরতা বন্ধে স্মার্ট পেট্রোলিং চালু রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

নড়াইলে রাজা বাবুকে নিয়ে বিপাকে খামারি

0

সাদাকালো রঙের ষাঁড়টির ওজন ৩২ মণ। লম্বায় ১০ ফুট ও ৬ ফুট উচ্চতার ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির নাম ‘রাজা বাবু’। নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের উড়নী গ্রামের আবদুল কাদের মোল্লা তিন বছর ধরে এই ষাঁড় লালন-পালন করেছেন।

উদ্দেশ্য ছিল, কোরবানিতে ষাঁড়টি বিক্রি করবেন। কিন্তু বিক্রি করতে পারেননি। ফলে ষাঁড় নিয়ে এখন পড়েছেন বিপাকে। খামারি আবদুল কাদের দাবি করেন, তাঁর রাজা বাবু নড়াইল জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু। প্রতিদিন খাবার লাগে প্রায় ৬০০ টাকার। প্রাকৃতিক খাবারে পালন করা।

তিনি বলেন, তাঁর খামারে ছোট–বড় মিলে ৯টি গাভি আছে। এর মধ্যে একটি গাভির বাছুর হলো রাজা বাবু। কোরবানিতে ষাঁড়টি বিক্রি করতে না পারায় এখন তা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুধু রাজা বাবুই নয়, জেলায় কোরবানিযোগ্য ৮ হাজার ৯৭৮টি গরু অবিক্রীত থেকে গেছে। কোরবানি হয়েছে ১১ হাজার ৮১৪টি গরু। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ২৯টি, লোহাগড়ায় ৫ হাজার ৭২১টি ও কালিয়া উপজেলায় ২ হাজার ৬৪টি গরু কোরবানি হয়েছে। তবে গরুর চেয়ে ছাগল কোরবানি হয়েছে বেশি। জেলায় ছাগল কোরবানি হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬৮টি।

জেলায় গরুর খামার আছে ৪ হাজার ৬২টি। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে অনেকে গরু পালন করেছেন। এত গরু অবিক্রীত থেকে যাওয়ায় বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা। নড়াইল শহরের দুর্গাপুর গ্রামের খামারি ঈমান আলী পাঁচটি ষাঁড় কোরবানিতে বিক্রি করতে চেষ্টা করেন। দুটি বিক্রি হয়েছে দুই লাখ টাকায়। অন্য তিনটি বড়, তাই বিক্রি হয়নি।

এ গ্রামের মোশারেফ মোল্লা তাঁর ১০টি বড় গরু বিক্রি করতে পারেননি। ছোট ৯টি বিক্রি করেছেন লোহাগড়া উপজেলার মাকড়াইল গ্রামের খোকন আলী তাঁর ২৪ মণ ওজনের ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারেননি। বিক্রি হয়নি এ গ্রামের হেমায়েত হোসেনের ২২ মণ ওজনের ষাঁড়টি।

এ উপজেলার বড় খামারি রামকান্তপুর গ্রামের আমিনুর রহমান চারটি, চরকোটাকোল গ্রামের খন্দকার ফারুক ছয়টি, দিঘলিয়া গ্রামের জান্নাত ১২টি, ধানাইড় গ্রামের আমিরুল ইসলাম একটি ও পারমল্লিকপুর গ্রামের মিরাজুল ইসলাম দুটি গরু বিক্রি করতে পারেননি। অবিক্রীত এসব গরুর অধিকাংশই বড় আকৃতির।জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মারুফ হাসান বলেন, এবার গরু না দিয়ে অনেকেই ছাগল কোরবানি দিয়েছেন।

ছোট গরুর চাহিদা ছিল বেশি। লকডাউনের কারণে সময়মতো ঢাকা ও চট্টগ্রাম গরু নেওয়া যায়নি। করোনার কারণে স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনেকেই বড় গরু কেনেননি। তারপরও প্রাকৃতিক খাবারে পালন করলে বেশি দিন রাখা যাবে। এগুলো আরও বড় হবে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি মুহিত

0

মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আবুল মাল আবদুল মুহিতকে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।

আবুল মাল আবদুল মুহিতের পরিবার থেকে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা বলা হয়েছে, ওনার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। তবে সতর্কতার জন্য ওনাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তিনি দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

কুমিল্লায় গত ২৪ ঘন্টায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু

0

মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও উপর্সগ নিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত হয়েছে ৯৬৪ জনের। এটি ছিল জেলায় সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে ২৪০১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯৬৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ হাজার ৩২৮ জনে। আক্রান্তের হার ৪০ দশমিক এক শতাংশ।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ২৮১ জন, আদর্শ সদরে ৩১ জন, সদর দক্ষিণের ১৯ জন, বুড়িচংয়ে ৫১ জন, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৩৮ জন, চান্দিনায় ১৭ জন, চৌদ্দগ্রামে ৬৬ জন, দেবিদ্বারে ৩৫ জন, দাউদকান্দিতে ৯০ জন, লাকসামে ৫৯ জন, লালমাইতে ১১ জন, নাঙ্গলকোটে ৪৩ জন, বরুড়ায় ৪৪ জন, মনোহরগঞ্জে ২৮ জন, মুরাদনগরে ৮৪ জন, মেঘনায় ২১ জন, তিতাসে ১৪ জন এবং হোমনা উপজেলার ৩২ জন রয়েছেন।

কঠোর বিধিনিষেধের ৭ম দিনে রাজধানীতে বের হয়ে গ্রেপ্তার ৫৬৮

0

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরকারের দেয়া দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে ৭ম দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বৃষ্টির মধ্যেও বাইরে বের হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫৬৮ জন।

আর ২০৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া ট্রাফিক বিভাগ ৪৩১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয়েছে ৯ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা। ৭ দিনে রাজধানীতে মোট গ্রেপ্তার হলেন তিন হাজার ৬২৪ জন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, সরকার করোনার সংক্রমণরোধে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সপ্তম দিনেও রাজধানীজুড়ে সক্রিয় ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীতে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অকারণে ও নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হওয়ায় ও লকডাউনেও প্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় ২০৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

মালয়েশিয়ায় ভাতের হোম ডেলিভারি দিতে হেলিকপ্টার

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে মালয়েশিয়ার চলমান লকডাউনে খাবারের হোম ডেলিভারি সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

করোনা সংক্রমণের কারণে মালয়েশিয়ায় লকডাউন চলছে। এই সময়ে বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে যাতায়াতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার ইপোহ শহর থেকে ৩৬ জনের খাবার নিয়ে ১৮০ কিলোমিটার দূরে কুয়ালালামপুরে ফিরেছে একটি হেলিকপ্টার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোতে দেখা গেছে, হেলিকপ্টারটি একটি ক্ষেতে অবতরণ করেছে। পরে ইপোহ শহরের একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ থেকে ‘নাসি গাঞ্জা’র প্যাকেট সংগ্রহ করে এতে ওঠানো হয়।

মাছ, মাংস, সবজি ও কারি সসের মিশ্রনে এই ভাতের এই আইটেমটি মালয়েশিয়ায় ‘নাসি গাঞ্জা’ নামে পরিচিত। নামের সঙ্গে গাঞ্জা থাকলেও এতে অবশ্য নেশাজাতীয় কোনো বস্তুর মিশ্রণ নেই। সুস্বাদুর কারণে এটি বেশ জনপ্রিয় মালয়েশিয়ায়।

পুলিশ জানিয়েছে, লাল রঙের হেলিকপ্টারটিকে রাজধানীর বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল শুধু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। খাদ্য সংগ্রহের বা সরবরাহের কোনো অনুমতি এর ছিল না।

বেগমগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার

0

নোয়াখালী বেগমগঞ্জে পুলিশ ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহত গৃহ বধুর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস রুপা(২৫)।

বুধবার দিনগত মধ্য রাতে উপজেলার নরোত্তম পুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জসিম উদ্দিনের নতুন বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত গৃহবধুর মা তুহিন আক্তার রুমি বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচজনের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ নিহতের স্বামী সালাহ উদ্দিন সোহেল কে বুধবার রাতে আটক করে। মামলা দায়েরর পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাকাগারে প্রেরণ করে।

স্থানীয়রা জানায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তম পুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হাসেমের ছেলে ও চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দিন সোহেলের সাথে পার্শ্ববর্তী উপজেলা সোনাইমুড়ীর বজরা গ্রামের মো.ওয়াহিদুলের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস রুপার বিয়ে হয়। নিহত রুপার মা ও মামলার বাদী তুহিন আক্তার রুমি অভিযোগ করে বলেন,বিয়ের পর থেকে সোহেল রুপার সাথে ঠিকমত কথা বলতনা। তার মেয়েকে নানা ভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন সোহেল ও তার পরিবারের লোকজন।

ইতোমধ্যে রুপা ৪মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়েন। পারিবারিক কলহের জের ধরে বুধবার রাতে সোহেল ও তার পরিবারের লোকজন রুপাকে এলোপাতাড়ি মার ধর করে। এক পর্যায়ে সে মারা যায়। মারা যাওয়ার রুপা আত্মহত্যা করেছেন বলে তার বাবার বাড়িতে সংবাদ দেয় সোহেল ও তার পরিবার। সংবাদ পেয়ে তিনি ( রুপার মা) দ্রুত সোহেল দের বাড়িতে এসে রুপাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

এরপর সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করলে বেগমগঞ্জ মডেল থানার উপ- পুলিশ পরিদর্শক (এস আই) হাবিবুর রহমান পুলিশ নিয়ে ঘটনা স্থল পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং নিহতের স্বামী সোহেলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি হত্যাকান্ড।

মামলর তদন্তকারী কর্মমকর্তা বেগমগঞ্জ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এস আই) হাবিবুর রহমান বলেন ৯৯৯ এ কল পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে রাত ১২ টার দিকে ঘটনাস্থল থেেেক মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার ১১ টার দিকে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করি।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূ র মা বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আজ সকালে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামী সালাহ উদ্দিন সোহেল কে গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।